Published : 19 Jan 2026, 05:53 PM
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শুক্রবার পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে দিয়ে আগামী মাসে নতুন নির্বাচনের পথ খুলে দিতে যাচ্ছেন।
এ আগাম নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থনের প্রমাণ দিয়ে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করতে পারবেন বলেই তার আশা, বলছে বিবিসি।
“এটা খুবই ওজনদার সিদ্ধান্ত, যা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাপানের পথ নির্ধারণ করবে,” সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি এমনটাই বলেছেন। জাপান পরিচালনায় তার ওপর আস্থা রাখতে ভোটারদের প্রতি অনুরোধও জানিয়েছেন এ নারী প্রধানমন্ত্রী।
৮ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া ভোটে জাপানিরা তাদের পার্লামেন্টের প্রভাবশালী নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের ৪৬৫ সদস্যকে বেছে নেবেন।
গত অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার নেওয়ার পর থেকে তাকাইচি ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা দৃঢ় জনসমর্থন উপভোগ করছিলেন। তার লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) হাতে এখন নিম্নকক্ষের ১৯৯টি আসন রয়েছে, এর মধ্যে তিনটি তাদের স্বতন্ত্র অংশীদারদের। এত সমর্থন পার্লামেন্টে আর কারও নেই।
জাপান ইনোভেশন পার্টির সঙ্গে এলডিপির জোট নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে যথেষ্ট।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের শিষ্য ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের স্বঘোষিত ভক্ত জাপানের প্রথম এ নারী প্রধানমন্ত্রী দেশে ‘আয়রন লেডি’ নামে খ্যাত।
ডিসেম্বরে তার মন্ত্রিসভা রেকর্ড ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েনের (৫ হাজার ৭০০ কোটি ডলার) প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে। তাও এমন এক সময়ে যখন চীনকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে; অঞ্চলজুড়ে প্রতিবেশীর সামরিক কর্মকাণ্ডকে টোকিও এখন ‘সবচেয়ে বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবেই দেখছে।
গেল নভেম্বর থেকেই তাকাইচি বেইজিংয়ের রোষের মুখে রয়েছেন, সেসময় এক মন্তব্যে তিনি চীন তাইওয়ান আক্রমণ করলে জাপান তার আত্মরক্ষা বাহিনী নিয়ে জবাব দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
এই বিবাদ এরই মধ্যে দুই দেশের সম্পর্ককে দশককালের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় নিয়ে গেছে।
তাকাইচি শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করছেন। অক্টোবরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের জাপান সফরের সময় দুই নেতাই একে অপরের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তারা বিরল খনিজ নিয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষরও করেছেন। স্বাক্ষর করা এক নথিতে জাপান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন ‘সোনালী যুগে’ প্রবেশ করছে বলেও ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা।
দেশে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের নেতৃত্বে ব্যাপক ব্যায়ের পক্ষে তাকাইচি, একে দেখা হচ্ছে ‘আবেনোমিক্সের’ সময়কার অর্থনৈতিক প্রণোদনা ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা হিসেবে।
ডিসেম্বর পর্যন্ত বড় বড় সব জরিপে তাকাইচি ও তার সরকারের প্রতি ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত জনসমর্থন দেখা গেছে।
কিন্তু তার আগাম নির্বাচনের বাজি কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নাও এনে দিতে পারে।
এলডিপির নেতৃত্ব অনেক ধরেই বেশ নড়বড়ে, পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি। জনসমর্থন কমে যাওয়া ও নানান কেলেঙ্কারিতে তার পূর্বসূরীদের সময়ের আগেই সরে যেতে হয়েছে।
তার আগের প্রধানমন্ত্রী, শিগেরু ইশিবাও দায়িত্ব পাওয়ার পরপরই আগাম নির্বাচন ডেকেছিলেন। সেবার এলডিপি তার ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে ফল করে এবং দল নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়।
জাপানের সবচেয়ে বড় বিরোধী দল কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপান গত সপ্তাহে এলডিপির সাবেক জোটসঙ্গী কোমিতো পার্টির সঙ্গে মিলে নতুন এক মধ্যপন্থি দলের জন্ম দিয়েছে।
সেন্ট্রিস্ট রিফর্স অ্যালায়েন্স নামে নতুন এ দল আসছে নির্বাচনে এলডিপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়েও দাঁড়াতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা।