Published : 13 Dec 2025, 11:28 AM
ভারতের রাজধানী দিল্লি ও আশপাশের বাসিন্দারা শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই চারপাশে ধোঁয়াশার চাদর প্রত্যক্ষ করেছেন।
বহু এলাকায় দৃশ্যমানতা বিপজ্জনক মাত্রায় কমে গেছে বলে খবর দিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ড (সিপিসিবি) জানিয়েছে, সকাল ৮টায় দিল্লির বাতাসের গড় মান মাত্রা বা একিউআই ছিল ৩৯০, যা ‘অতি খারাপ’ হিসেবে ধরা হয়। তবে দিল্লির কয়েকটি এলাকা আরও ভয়াবহ অবস্থায় রেয়েছে, যেখানে বায়ুর মান ‘গুরুতর’ (সিভিয়ার) পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এনডিটিভি লিখেছে, নন্দর বিহারে একিউআই ৪৩৫, বুড়ারি ক্রসিংয়ে ৪১৫, চাঁদনি চকে ৪১৯, ঘাজিপুরে ৪৩৫, জাহাঙ্গিরপুরিতে ৪৪২, আর কে পুরমে ৪০৪ এবং রোহিনীতে একিউআই স্কোর ৪৩৬ নথিবদ্ধ হয়েছে।
ভোরের সময়ে ধোঁয়া ও হালকা কুয়াশার মিশ্রণে শহরের বিভিন্ন স্থানে দৃশ্যমানতা আরও কমে গেছে। সিপিসিবির মানদণ্ড অনুযায়ী, ০–৫০ হলে বাতাস ‘ভালো’, ৫১–১০০ ‘সন্তোষজনক’, ১০১–২০০ ‘মাঝারি’, ২০১–৩০০ ‘খারাপ’, ৩০১–৪০০ ‘অতি খারাপ’, আর ৪০১–৫০০ হলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়।
শীতের এই সময়ে দিল্লিতে বিপজ্জনক মাত্রার বায়ুদূষণ নতুন নয়। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে, শনিবারের ‘অতি খারাপ’ পর্যায়ের বাতাসে দীর্ঘ সময় থাকলে সুস্থ ব্যক্তিরও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।
দিল্লি বিমানবন্দর জানিয়েছে, আপাতত সব ফ্লাইট স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আগের দিন শুক্রবারও দিল্লির আকাশ ছিল ঘন ধোঁয়ায় ঢাকা, এএকিউআই ছিল ৩৮৬। ঘাজিপুর ও আনন্দ বিহারের মতো এলাকায় দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সামান্য উন্নতির আভাস মিললেও রাজধানীর বড় অংশ এখনও ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কবলে। এ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, যেখানে দলগুলো একে অপরকে দায়ী করছে শহরের স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য।