Published : 07 Dec 2025, 06:51 PM
ইরানে ম্যারাথনে হিজাব না পরেই অংশ নিয়েছেন বেশ কয়েক জন নারী। হিজাব না পরার পরও কেন তাদেরকে ম্যারাথনে অংশ নিতে দেওয়া হল সে প্রশ্নে তুলেই দুই আয়োজককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বিচার বিভাগের নির্দেশে।
শুক্রবার ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের কিশ দ্বীপে আয়োজিত ওই ম্যারাথন প্রতিযোগিতার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরই দ্রুত এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ম্যারাথনে ২০০০ নারী এবং ৩০০০ হাজার পুরুষ আলাদা আলাদা ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। বিবিসি জানায়, লাল টি-শার্ট পরা কয়েকজন নারী প্রতিযোগীকে হিজাব পরা কিংবা মাথা কোনও কাপড়ে ঢেকে রাখতে দেখা যায়নি, যা ইরানের কঠোর পোশাক বিধির বিপরীতে যায়।
ফলে নারীদের ম্যারাথন দৌড়ের সেই ছবি প্রকাশ হতেই বিতর্ক শুরু হয় ইরানে। ইরানের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে বলা হয়, প্রতিযোগিতার দুই আয়োজকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ইরানে নারীদের জন্য কড়া পোশাকবিধি আছে। দেশটিতে আইনানুযায়ী, নারীদের সবখানে হিজাব পরতে হয়। না-মানলে কড়া শাস্তির বিধানও আছে। এই পোশাকবিধি নিয়ে বার বার প্রতিবাদও হয়েছে ইরানে।
কিশ দ্বীপের কৌসুলি বলছেন, ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা যেভাবে অনুষ্ঠান করা হয়েছে তা ছিল ‘সামাজিক শালীনতার লঙ্ঘন।’ ইরানের ইসলামিক নেতারাও এই ম্যারাথনের নিন্দা-সমালোচনা করেছেন।
তবে ইরানের প্রগতিশীলরা ক্ষমতাসীনদের দিক থেকে নারীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া দমনমূলক নীতি প্রত্যাখ্যানের বার্তা হিসেবে হিজাব না পরে ম্যারাথনে অংশ নেওয়া নারীদেরকে সমর্থন জানিয়েছেন।
কিন্তু ইরান সরকার বিষয়টিকে বর্তমান ক্ষমতা কাঠামোর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি প্রয়োগ করেছে।
ইরানে হিজাবের বিষয়টি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। কখনও কর্তৃপক্ষ কিছুটা শিথিলতা দেখালেও কখনও কখনও দমন-পীড়ন চালানো হয়। অতীতে হিজাব না-পরার জন্য নারীদের উপর নানা কড়া পদক্ষেপ নেওযা হয়েছিল।
২০২২ সালে ইরানি তরুণী মাসা আমিনিকে হিজাব না পরার ‘অপরাধে’ তুলে নিয়ে গিয়েছিল ইরানের নীতিপুলিশ। ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতেই পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় তার। মাসার মৃত্যুর পর ইরানে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যায়।