১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যাত্রীবাহী নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পাঁচজন নিহত: ইরান

ইরান এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক হঠকারিতা’ বলে বর্ণনা করেছে।

যাত্রীবাহী নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পাঁচজন নিহত: ইরান
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 May 2026, 08:24 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:33 PM

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর হামলায় ৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।

তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌযানে হামলার যে দাবি করা হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে সেই হামলা চালানো হয়েছে সাধারণ যাত্রীবাহী নৌকায়।

মঙ্গলবার ইরানের এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের দেওয়া বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। 

অ্যাডমিরাল কুপার জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়া জাহাজগুলোকে উদ্ধারের সময় আইআরজিসির ছয়টি নৌযান বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের সেনারা সেগুলো ডুবিয়ে দেয়। 

পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এই সংখ্যা সাতটি বলে উল্লেখ করেন।

হরমুজ প্রণালি সচল করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া এই সামরিক অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। এই অভিযানের ফলে গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যা ওই অঞ্চলে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি একজন সামরিক কমান্ডারকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ওমানের খাসাব উপকূল থেকে ইরান অভিমুখে আসা দুটি ছোট নৌকায় সোমবার মার্কিন বাহিনী হামলা চালায়। এতে নৌকা দুটি ধ্বংস হয় এবং পাঁচজন বেসামরিক যাত্রী নিহত হন। 

ওই কমান্ডার এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে একে ‘অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে এ বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলি হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরোধ করে রেখেছে তেহরান। 

বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও সারের দাম চড়াও হয়েছে, যা বৈশ্বিক মন্দা ও খাদ্য সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। 

ইরান এখন এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চায় এবং ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ট্রানজিট ফি আদায়ের দাবিতে অনড় রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের একটি তেল ট্যাংকারে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছে। 

আমিরাত কর্তৃপক্ষের দাবি, ইরান তাদের ভূখণ্ডে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন ছুড়েছে, যার ফলে ফুজাইরা শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন লেগে তিনজন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। 

এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার একটি জাহাজেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ইরান এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক হঠকারিতা’ বলে বর্ণনা করেছে। 

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “হরমুজ প্রণালির ঘটনা এটিই স্পষ্ট করে যে, রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। শান্তি আলোচনা এগিয়ে চলছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হবে না নতুন কোনো চোরাবালিতে পা দেওয়া।”

অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। 

ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ চলাকালীন মার্কিন নৌযানে হামলা চালালে ইরানকে ‘পৃথিবীর বুক থেকে মুছে ফেলা হবে’। 

ট্রাম্প বলেন, “আমাদের কাছে আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে এবং প্রয়োজনে আমরা তা ব্যবহার করব।”