Published : 14 May 2026, 09:56 AM
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে শীর্ষ বৈঠক শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রেসিডেন্ট শিয়ের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বৈঠক শুরু হয় বলে রয়টার্স জানায়।
শি বলেন, “আমি সব সময়ই বিশ্বাস করি চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পার্থক্যের চেয়ে সাধারণ আগ্রহের দিকটাই বেশি আছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্য উভয়ের জন্যই একটি সুযোগ। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীল সম্পর্ক বিশ্বের জন্য একটি ভালো বিষয়।
“আমি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে মতবিনিময়ের জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষায় আছি। অতীতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ও ভবিষ্যতের দ্বার উন্মোচন করতে ২০২৬ সাল চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও মাইলফলক বছর হোক।”
শি ট্রাম্পের দিকে অনেকগুলো প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় ও বিশ্বে আরও স্থিতিশীলতা নিয়ে আসার ক্ষেত্রে আমরা কী একসঙ্গে কাজ করতে পারি? আমরা আমাদের জনগণের কল্যাণে ও মানবতার ভবিষ্যতের জন্য এবং যৌথভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণের দিকে মনোযোগ দিতে পারি?
চীনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “এগুলো ইতিহাসের, বিশ্বের ও জনগণের প্রশ্ন। এগুলো একইসঙ্গে আমাদের সময়ের সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্ন যা গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতা হিসেবে আমাকে ও আপনাকে অবশ্যই একসঙ্গে উত্তর দিতে হবে।”

দুই নেতার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আগে ট্রাম্প বলেন, তার ও শি-র মধ্যে দীর্ঘকাল ধরে ‘একটি চমৎকার সম্পর্ক’ রয়েছে, যার মাধ্যমে তারা উদ্ভূত সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছেন আর এ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ ‘চমৎকার হবে’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “যখনই আমাদের কোনো সমস্যা হতো, আমরা খুব দ্রুত তা সমাধান করে ফেলতাম।”
তিনি জানান, চীনের জন্য ও প্রেসিডেন্ট শি যে কাজ করেছেন তার প্রতি তার শ্রদ্ধা আছে।
“আপনি একজন মহান নেতা। এটি আমি সবাইকেই বলি। আপনি একজন মহান নেতা। কখনো কখনো মানুষ আমার এমন বলাটা পছন্দ করে না, কিন্তু তা সত্ত্বেও এটি বলি আমি কারণ এটি সত্য।”
চীনা গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, বৈঠকের আগে গ্রেট হল অব দ্য পিপলের সামনে ট্রাম্পের সম্মানে একটি স্বাগত অনুষ্ঠান হয়। পরে এই স্বাগত অনুষ্ঠানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ট্রাম্প।
১৩ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত এক রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে গিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। গত নয় বছরের মধ্যে এটি চীনে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর আর ২০১৭-র নভেম্বরের পরে ট্রাম্পের দ্বিতীয় সফর।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বিশ্ব শান্তি ও উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে নিবিড়ভাবে মতবিনিময় করবেন।
দুই পক্ষের আলোচনার প্রধান বিষয়সূচীরগুলোর মধ্যে ইরান, তাইওয়ান ও বিরল মৃত্তিকা অন্যতম।