Published : 06 Apr 2026, 05:26 PM
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি সামরিক আগ্রাসন চলমান অবস্থায় ইরানের দেওয়া প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ হওয়া ছাড়া, যুদ্ধের ছায়ায় ঘেরা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত শত্রুকেই পুনর্গঠনের সুযোগ করে দেবে বলে মত প্রকাশ করেছেন তাসনিমের বিশ্লেষকরা।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, কিছু মধ্যস্থতাকারী দেশ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ৪৫ দিনের একটি যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালাচ্ছে।
তারা দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তিতেও পৌঁছাতে চাইছে, যার প্রথম পর্বে থাকবে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতি, সেসময় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ নানান বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। দ্বিতীয় পর্বে হবে চুক্তি। আলোচনা শেষ না হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়তেও পারে।
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ তাসনিম বলছে, ‘আমেরিকান-ইসরায়েলি গণমাধ্যম’ যে খবর দিয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে ওই ৪৫ দিনেও যুদ্ধের ছায়া বহাল থাকবে।
“এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো দেশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অ্যাক্সিওস নামের গণমাধ্যমটি আমেরিকার মাটিতে বসে খবরের ছলে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালানোর জন্য সুপরিচিত, বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে,” বলেছে তারা।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন বিষয়ে বার্তা সংস্থা তাসনিমের যুদ্ধ বিষয়ক বিশ্লেষক দলের মত হল- ইরানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলার মতো কোনো পাগলামি করা হলে ইরান যে সমুচিত জবাব দেবে সে বিষয়ে বুঝতে পেরে ট্রাম্প তৃতীয়বারের মতো তার হুমকি থেকে পিছু হটার সুযোগ খুঁজছেন। সেই পথ করে দেওয়ার জন্যও এই ধরনের খবর বাজারে ছাড়া হতে পারে বলে সম্ভাবনা রয়েছে।
যুদ্ধের ছায়া বহাল থাকা অবস্থায় কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে ইরান রাজি হবে না বলে তেহরান বারবার তার অবস্থান সুস্পষ্ট করেছে। তারই উদাহরণ হচ্ছে- সাম্প্রতিক ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব, যা ইরান প্রত্যাখ্যান করেছে।
এই ধরনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিরোধিতার কারণও স্পষ্ট—যুদ্ধের চাপে বিভ্রান্ত আমেরিকান-জায়নবাদী শত্রুরা শর্তবিহীন কোনোরকম যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোলাবারুদের সঙ্কট ও কৌশলগতভাবে পড়া ফাঁদ থেকে বের হতে চায়।
এ কারণেই, সংঘাত বন্ধে ইরানের দেওয়া প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ ছাড়াই যুদ্ধের ছায়ায় ঘেরা সাময়িক যুদ্ধবিরতি, কেবল শত্রুকেই তার শক্তি পুনর্গঠনের সুযোগ করে দেবে। তারা এমনকি এই যুদ্ধবিরতিকালেও ইরানের ওপর যুদ্ধের ছায়া বজায় রাখবে, যা তাদের ইরানবিরোধী সামরিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়ক হতে পারে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
তাদের মতে, ইরানি কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত নিয়মিতভাবে যেসব শর্ত ও কাঠামোর কথা বলেছেন, তা বিবেচনায় নিলে চলমান যুদ্ধ বন্ধে ইরানের যে নীতি তাতে ‘যুদ্ধের ছায়া বহাল রেখে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি’ স্থান পাওয়ার কথা নয়।
ইরান আগে বলেছিল, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নবাদী শত্রুরা’ ফের কোনো ধরনের আগ্রাসন চালাবে না এমন দৃঢ় নিশ্চয়তা এবং আলোচনার ঊর্ধ্বে থাকা ইরানের আরও কিছু শর্ত পূরণ হলেই কেবল যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে।
হরমুজ প্রণালি যে আর কখনোই যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না তেহরান সেটিও সোজাসাপ্টা জানিয়ে দিয়েছে, বলছেন তাসনিমের বিশ্লেষকরা।