Published : 16 Jun 2026, 04:00 PM
মার্চে নির্বাচনে জয়ের পর প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী চীন সফরে গিয়ে শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই-র সাথে বৈঠক করেছেন নেপালের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল।
এর মাত্র কয়েক দিন আগেই তিনি বেইজিংয়ের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতে এক সরকারি সফর সম্পন্ন করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের ঘরের কাছে নেপালে কমিউনিস্ট নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পতন বেইজিংয়ের জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর।
তবে সোমবার রাতে এক বিবৃতিতে ওয়াং ই জানিয়েছেন, চীন সবসময়ই তার প্রতিবেশী কূটনীতিতে নেপালকে অগ্রাধিকারে রেখেছে এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পাশে থাকবে।
দিল্লির সাথে নেপালের সীমান্ত বিরোধ থাকলেও চলতি মাসের শুরুতে ভারতে গিয়ে খানাল স্পষ্ট করেছিলেন, নতুন সরকার অতীতের রাজনৈতিক বোঝা থেকে মুক্ত এবং ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে প্রস্তুত।
ভারতের সাথে এই ঘনিষ্ঠতা প্রায় তিন কোটি জনসংখ্যার দেশ নেপালকে চীনের বিরুদ্ধে এক ধরণের বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে, যার ফলে বেইজিংকে এখন নেপালের কাছে নিজেদের গুরুত্ব প্রমাণ করার তাগিদ অনুভব করতে হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (বিআরআই)-এ ২০১৭ সালে নেপাল যোগ দিলেও অর্থায়ন বিতর্কে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি মন্থর।
বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চীন নেপালকে প্রায় ৩১ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে, যেখানে ভারতের ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৮০ কোটি ডলার।
এছাড়া নেপালের জ্বালানি ও রিয়েল এস্টেট খাতে চীনা কোম্পানিগুলোর ১১২ কোটি ডলারের বিনিয়োগ রয়েছে।
তবে ২০১৬ সালে চীনের অর্থায়নে নির্মিত পোখরা বিমানবন্দরের ব্যয় ১৭ কোটি থেকে বাড়িয়ে ২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার করার অভিযোগে সম্প্রতি নেপালের ৫৫ জন কর্মকর্তা ও চীনা ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন।
উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খানালের দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ মূলত এই দুর্নীতি দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছে।
`চায়না-গ্লোবাল সাউথ প্রজেক্ট’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা এরিক ওল্যান্ডার বলেন, নেপালের এই রাজনৈতিক পট পরিবর্তন বেইজিংকে অপ্রস্তুত করেছে। বেইজিং এমন কোনো পরিবর্তন পছন্দ করে না যা তাদের স্বার্থকে চ্যালেঞ্জ করে।
গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে কোনো ক্ষমতাসীন সরকারের পতন হওয়াটা বেইজিং সাধারণত আগে থেকে আঁচ করতে পারে না এবং তা ইতিবাচকভাবেও নেয় না।