Published : 05 Feb 2026, 09:53 AM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মিনেসোটা থেকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন নীতি প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা ৭০০ এজেন্টকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছে, তবে এরপরও মধ্য-পশ্চিমের অঙ্গরাজ্যটিতে প্রায় দুই হাজার এজেন্ট থাকছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের ‘সীমান্ত সম্রাট’ খ্যাত টম হোম্যান।
বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের আটক ও তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দিকে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস ও এর আশপাশে ট্রাম্প কয়েক হাজার সশস্ত্র অভিবাসন কর্মকর্তা মোতায়েন করার পর থেকেই শহরটি বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল।
কাউন্টি জেলগুলো পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মিনেসোটার নির্বাচিত শেরিফের ‘অভূতপূর্ব’ সহায়তা দেখতে পেয়ে কিছু সেনা কমানো হচ্ছে, বুধবার হোম্যান এ কথা জানান বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
“স্পষ্ট করে বলি, এই প্রশাসনের মেয়াদে গণহারে বহিষ্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরোপুরি অঙ্গীকারবদ্ধ, তাই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিদিনই অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান চলবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ নিয়ে ভিন্ন কোনো নির্দেশনা আসেনি,” সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের ‘সীমান্ত সম্রাট’ এসবই বলেছেন।
রিপাবলিকান ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বারবার বলছেন, অবৈধ অভিবাসীদের বেশিরভাগকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া উচিত। আর্থিক জালিয়াতি ও সহিংস অপরাধের জন্য এ অবৈধ অভিবাসীরাই দায়ী বলেও অভিযোগ তাদের।
ডেমোক্র্যাট গভর্নরের অধীনে থাকা মিনেসোটা অবৈধ অভিবাসী ধরতে অঙ্গরাজ্যে কয়েক হাজার সশস্ত্র এজেন্ট মোতায়েনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলাও করে দিয়েছে।
ট্রাম্পের অভিবাসন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিনেসোটাজুড়ে কয়েক সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভ হয়েছে, তার মধ্যেই ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনা পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এ ধরনের প্রাণহানির পর ডেমোক্র্যাটরা তো বটেই অনেক রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনায় মেতে ওঠেন।
আটক অবৈধ অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে মিনেসোটার জেলখানাগুলো অভিবাসন কর্মকর্তাদের সহায়তা করবে, হোম্যান এমনটা চান। বেশ কয়েকটি জেল এরই মধ্যে অবৈধ অভিবাসীদের হেফাজতে রাখার দায়িত্ব ট্রাম্পের পাঠানো এজেন্টদের কাছে হন্তান্তর করলেও মিনিয়াপোলিসের প্রধান জেলসহ অনেকেই সহযোগিতা করছে না।
মিনিয়াপোলিস ও বেশকিছু শহর পুলিশসহ তাদের কর্মীদের লোকজনের নাগরিকত্ব সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ফলে অপরাধের শিকার কিংবা প্রত্যক্ষদর্শী অবৈধ অভিবাসীরা যদি সামনে আসতে ভয় পায় তবে তা জন নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠবে বলেও মনে করছে তারা।
আরও পড়ুন
আইসিই’র বিরুদ্ধে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র, মিনিয়াপোলিসে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
ট্রাম্পকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের সরিয়ে নিতে বললেন মিনেসোটার গভর্নর
মিনেসোটায় আইসিইর অভিযানে আটক বাবা ও ৫ বছরের ছেলেকে মুক্তির আদেশ আদালতের