Published : 07 Jul 2025, 01:50 PM
অস্ট্রেলীয় এক নারী তার স্যাপারেশনে থাকা স্বামীর তিন বয়স্ক আত্মীয়কে বিষাক্ত মাশরুম ভরা খাবার খাইয়ে মেরে ফেলার ও অপর একজনকে হত্যা চেষ্টার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। তিনি ওই চার আত্মীয়কে বিষাক্ত মাশরুম দিয়ে রান্না করা খাবার খাইয়ে ছিলেন।
নজিরবিহীন এই ঘটনা নিয়ে হওয়া মামলা অস্ট্রেলিয়াকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের।
সোমবার অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মোরওয়েল শহরের ল্যাট্রোব ভ্যালি হাকিম আদালতের জুরি প্রাণঘাতী মাশরুম রান্না করে দুপুরের খাবারের সঙ্গে খাইয়ে তিন আত্মীয়কে হত্যার ও অপরজনকে গুরুতর অসুস্থ করার জন্য এরিন ট্রুডি প্যাটারসনকে (৫০) দোষী সাব্যস্ত করেছেন।
তার বিরুদ্ধে শাশুড়ি গেইল প্যাটারসন (৭০), শ্বশুর ডনাল্ড প্যাটারসন (৭০) এবং গেইলের বোন হেদার উইলকিনসনকে (৬৬) হত্যা করার এবং হেদার স্বামী ইয়ান উইলকিনসনকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছিল; জানিয়েছে রয়টার্স।
২০২৩ সালের ২৯ জুলাই এই চারজন মেলবোর্ন শহর থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণপূর্বে ছোট শহর লিয়েনগাথায় এরিন প্যাটারসনের বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। দুপুরের ওই দাওয়াতে এরিন তাদের অত্যন্ত সুস্বাদু ও আকর্ষণীয় ডিশ ‘ইন্ডিভিজুয়াল বিফ ওয়েলিংটন’ পরিবেশন করেন।
বিবিসি জানিয়েছে, এরিনসহ প্রত্যেকে ওই খাবার খান। কয়েক ঘণ্টা পর তারা সবাই অসুস্থবোধ করছেন বলে জানান। চার অতিথির সবাই তীব্র বমি বমি ভাব, বমি ও ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরিনও হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে দেখা যায় ওই আকর্ষণীয় ডিশটিতে ‘ডেথ ক্যাপ মাশরুম’ মেশানো ছিল।
কয়েকদিনের মধ্যেই ওই চার অতিথিকে লাইফ সাপোর্ট দিতে হয়। তাদের অনেকগুলো অঙ্গ অকেজো হয়ে যায়।
২ অগাস্ট এরিনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি বাড়িতে ফিরে জংলি মাশরুম যে ডিহাইড্রেটরে শুকিয়ে ছিলেন তা স্থানীয় ময়লার ভাগারে ফেলে দেন।

৪ ও ৫ অগাস্টের মধ্যে ডনাল্ড ও গেইল প্যাটারসন এবং হেদার উইলকিনসন মারা যান। এ সময় পুলিশ ওই ময়লার ভাগার থেকে খাদ্য শুষ্ক করার ডিহাইড্রেটটি উদ্ধার করে।
কয়েক সপ্তাহ কোমায় থাকার পর ২২ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান ইয়ান উইলকিনসন।
এই দুপুরের খাবারের দাওয়াতে বিচ্ছিন্ন থাকা স্বামী সাইমন প্যাটারসনকেও থাকতে বলেছিলেন এরিন। কিন্তু সম্প্রতি তাদের মধ্যে যা ঘটেছে তাতে ‘খু্ব অস্বস্তিবোধ’ করায় সাইমন এই দাওয়াতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। এই দম্পতির দু’টি সন্তান আছে। তাদের সম্পর্কে ভাঙন ধরায় তারা আলাদা থাকছিলেন।
এই মামলার আইনি প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব দেওয়া সরকার পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার ন্যানেট রজার্স আদালতকে জানান, এরিন প্যাটারসন তার অতিথিদের হত্যা করার জন্য কয়েকটি প্রতারণা আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর মধ্যে খাবারে বিষ মেশানো ও নিজে বিষহীন খাবার খাওয়া অন্যতম।
অপরদিকে এরিন আদালতকে জানিয়েছেন, তিনি অনেক বছর ধরে বুলিমিয়া রোগে ভুগছেন আর তাই খাওয়ার পর তিনি বমি করেছিলেন। তার পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, এই কারণেই একই খাবার খাওয়ার পরও এরিন অন্যদের মতো অসুস্থ হয়ে পড়েননি।
মোরওয়েলে ল্যাট্রোব ভ্যালি হাকিম আদালতে ১০ সপ্তাহ ধরে বিচার চলার পর জুরিরা এরিনকে চারটি অভিযোগের সবগুলোতেই দোষী সাব্যস্ত করেন। কিন্তু এরিন প্যাটারসন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, মৃত্যুগুলো দুর্ঘটনাজনিত ছিল।
পরে আরেকটি তারিখে এরিনের শাস্তি ঘোষণা করা হবে। তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।