Published : 25 Oct 2025, 09:42 AM
থাইল্যান্ডের রাজা ভজিরালংকর্নের মা রানি সিরিকিত ৯৩ বছর বয়সে মারা গেছেন।
থাই রাজপরিবারের দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে তার ‘শান্তিপূর্ণ’ মৃত্যু হয়।
২০১৯ সাল থেকে হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় সিরিকিত শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন, যার মধ্যে চলতি মাসে রক্তে সংক্রমণ দেখা দেয়।
সিরিকিত থাইল্যান্ডের দীর্ঘতম সময়ের রাজা ভূমিবল আদুলিয়াদেজের স্ত্রী ছিলেন। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজত্বকারী ভূমিবল ২০১৬ সালে মারা যান।
রাজপরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাজা ভজিরালংকর্ন থাই রাজপরিবারের দপ্তরকে তার মায়ের রাজকীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন।
রানি সিরিকিতের দেহ ব্যাংককের গ্র্যান্ড প্যালেসের দুসিত থ্রোন হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংরক্ষিত থাকবে। থাই রাজপরিবারের সদস্যরাও এক বছর শোক পালনে থাকবেন।

বিবিসি লিখেছে, সিরিকিত যখন ফ্রান্সে সঙ্গীতে পড়াশোনা করছিলেন, তখন তার সঙ্গে ভূমিবলের পরিচয় হয়। সেই সময় সিরিকিতের বাবা ফ্রান্সে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ছিলেন।
১৯৮০ সালে বিবিসির প্রামাণ্যচিত্র 'সোল অব আ নেশন’-এ থাই রাজতন্ত্র সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন, “প্রথম দেখাতেই ঘৃণা জন্মেছিল।”
সিরিকিত বলেন, তাদের প্রথম সাক্ষাতে ভূমিবল দেরিতে এসেছিলেন।
“তিনি বলেছিলেন, তিনি বিকাল ৪টায় পৌঁছাবেন। কিন্তু তিনি ৭টায় এলেন, আর আমাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে হলো—বারবার সৌজন্যতা দেখাতে দেখাতে।”
ব্যাংককে রাজা ভূমিবলের অভিষেকের মাত্র এক সপ্তাহ আগে এ যুগল গাঁটছড়া বাঁধেন।
১৯৬০ এর দশকে তরুণ দম্পতি হিসেবে রানি সিরিকিত ও রাজা ভূমিবল বিশ্ব ভ্রমণ করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডুইট ডি আইজেনহাওয়ার, প্রয়াত রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ—এমনকি এলভিস প্রিসলির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছিলেন।
সেই দশকে প্রায়ই তিনি আন্তর্জাতিক সেরা পোশাক পরিধানকারীর তালিকায় স্থান পেতেন।
১৯৮০ সালে বিবিসিকে দেওয়া বিরল সাক্ষাৎকারে সিরিকিত থাইল্যান্ডে রাজতন্ত্র ও জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছিলেন— যে দেশে রাজতন্ত্রের অবমাননা নিষিদ্ধকারী কঠোর আইন এখনও বলবৎ রয়েছে।
তিনি বলেছিলেন, “থাইল্যান্ডের রাজা ও রানিরা সবসময় জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখেন এবং সাধারণত জনগণ রাজাকে জাতির পিতা হিসেবে মনে করে।

“এই কারণেই আমাদের ব্যক্তিগত জীবনের পরিসর খুবই সীমিত, কারণ আমাদের জাতির পিতা ও মাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।”
বিবিসি লিখেছে, সিরিকিতকে তার দেশে গুরুত্বপূর্ণ মাতৃসুলভ ব্যক্তি হিসেবে দেখা হতো এবং ১৯৭৬ সাল থেকে তার জন্মদিন ১২ অগাস্ট সেখানে মা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
২০০৮ সালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণ হারানো সরকারবিরোধী এক আন্দোলনকারীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তিনি অংশ নিয়েছিলেন।
রানি সিরিকিত ২০১২ সালে স্ট্রোক করেন, এরপর থেকে জনসমক্ষে তাকে খুব কমই দেখা গেছে। তিনি এক ছেলে ও তিন মেয়েকে রেখে গেছেন।