Published : 17 Nov 2025, 03:21 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প শিশু নিপীড়নকারী প্রয়াত জেফ্রি এপস্টেইনের নথি প্রকাশের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিতে নিজ দলের আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়া উচিত, কেননা ‘আমাদের লুকানোর কিছু নেই’, রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প এমনটাই লিখেছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।
এপস্টেইন সম্পর্কিত যেসব নথি এর মধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে, তার মধ্যে অনেক জায়গায় ট্রাম্পের নাম পাওয়া গেছে। কেবল তিনিই নন, সেসব নথিতে নাম এসেছে আরও অনেক রথী-মহারথীর।
ট্রাম্পের নাম ঘিরে রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম অস্বস্তিও আছে। এ নিয়ে সম্প্রতি নিজ দলের আইনপ্রণেতা মারজোরি টেলর গ্রিনের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের বিবাদও তুঙ্গে পৌঁছেছে।
কয়েক ডজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এরই মধ্যে এপস্টেইন নথি প্রকাশের বিলে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সব বাধা অতিক্রম করে বিলটি পাস হলে মার্কিন সরকারকে তাদের কাছে থাকা এপস্টেইন সংক্রান্ত সব নথি এবং তার বিরুদ্ধে হওয়া তদন্ত সংক্রান্ত সব তথ্য প্রকাশ করতে হবে।
প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়ার পর বিলটি উচ্চকক্ষ সেনেটেও পাস হতে হবে। সেখানে এর পক্ষে পর্যাপ্ত সমর্থন আছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের কারাগারের এক কক্ষে এপস্টেইনকে মৃত পাওয়া যায়। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানান।
যৌনদাসী কেনাবেচা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যৌনদাসী সরবরাহের অভিযোগ ছিল এপস্টেইনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আছে- এপস্টেইনের পিডো দ্বীপের বিলাসবহুল প্রাসাদে নানান কুকর্ম চলত এবং সেখানে যৌন কাজে নাবালিকা, এমনকি শিশুদেরও ব্যবহার করা হতো।
এক নাবালিকাকে যৌনবৃত্তিতে উদ্ধুদ্ধ করার দায়ে ২০০৮ সালে এপস্টেইন দোষীও সাব্যস্ত হয়েছিলেন।
এই শিশু নিপীড়নকারীকে নিয়ে এত আলোচনায় ট্রাম্প বরাবরই বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তার হোয়াইট হাউসের দৃষ্টিতে এটা ডেমোক্র্যাট-নেতৃত্বাধীন ‘মিথ্যা প্রচারণা’, যার উদ্দেশ্য হচ্ছে তার দলের কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া।
“বিচার বিভাগ এরই মধ্যে এপস্টেইন সংক্রান্ত হাজার হাজার পৃষ্ঠা প্রকাশ করেছে, তারা এখন বিল ক্লিনটন, রিড হফম্যান, ল্যারি সামারসহ নানান ধরনের ডেমোক্র্যাট সদস্যের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক খতিয়েও দেখছে। প্রতিনিধি পরিষদের ওভারসাইট কমিটি আইন অনুযায়ী যা করার ক্ষমতা রাখে করুক, আমার কিছুই যায় আসে না,” নিজের ট্রুথ সোশাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন ট্রাম্প।
এপস্টেইনের অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে ট্রাম্পের যোগসাজশ নিয়ে বিরোধীরা যেসব অভিযোগ করে আসছে, নথি প্রকাশের পক্ষে ভোট সেসব অভিযোগ খারিজ করে দেবে বলে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আভাস দিয়েছেন প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান স্পিকার মাইক জনসন।
ট্রাম্প এর আগে এপস্টেইন নিয়ে আর নথি প্রকাশের দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছিলেন।
পুরনো অনেক ছবিতে নানান অনুষ্ঠানে এপস্টেইন ও ট্রাম্পকে একসঙ্গে দেখা গেছে। তবে মার্কিন এ প্রেসিডেন্ট বলছেন, ২০০৮ সালে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগেই তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন তিনি। আর এপস্টেইন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি আগেও কিছুই জানতেন না।
সম্প্রতি প্রকাশ করা এপস্টেইনের কিছু ইমেইলে ট্রাম্পের নাম এসেছে, যদিও তিনি কোনো ধরনের অন্যায় করেছেন বলে ইমেইলগুলোতে কোনো ইঙ্গিত নেই।