Published : 21 Sep 2025, 12:13 PM
দক্ষ কর্মীদের ক্ষেত্রে এইচ-১বি ভিসা পেতে মার্কিন প্রশাসন কোম্পানিগুলোর জন্য যে নতুন এক লাখ ডলার ফি ধার্য করেছে তা কেবল আবেদনের সময় দিতে হবে এবং বিদ্যমান বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
রোববার থেকে এইচ-১বি ভিসায় এই নতুন এক লাখ ডলার ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে।
“এটা বাৎসরিক ফি নয়। এটা এককালীন, যা কেবল আবেদনের সময় প্রযোজ্য হবে,” শনিবার এক্সে এক পোস্টে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
অন্য কোনো দেশ থেকে দক্ষ কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে নিতে কোম্পানিগুলোকেই এ ভিসার আবেদন করতে হয়।
এখন যাদের এইচ-১বি ভিসা আছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থান করছেন, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ওই ১ লাখ ডলার ফি দিতে হবে না, বলেছেন লেভিট।
মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এর আগে শুক্রবার বলেছিলেন, এই ফি প্রতি বছর দেওয়া লাগবে, তবে এর নানা খুঁটিনাটি এখনও ‘খতিয়ে দেখা হচ্ছে’।
তার ওই ঘোষণার পরপরই মাইক্রোসফট, জেপি মরগ্যান ও অ্যামাজনের মতো অনেক কোম্পানি তাদের এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেয় বলে তাদের অভ্যন্তরীণ ইমেইল পর্যালোচনা করে বলছে রয়টার্স।
গোল্ডম্যান স্যাকসের অভ্যন্তরীণ মেমোতে এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।
এক্সে দেওয়া পোস্টে লেভিট বলেছেন, এইচ-১বি ভিসাধারীরা আগের মতোই স্বাভাবিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ ও পুনঃপ্রবেশ করতে পারবেন। নতুন এ ফি প্রযোজ্য হবে পরবর্তী এইচ-১বি লটারি রাউন্ডে, বর্তমান ভিসাধারী বা যারা ভিসা নবায়ন করবেন তাদের ক্ষেত্রে নয়।
হোয়াইট হাউস বলছে, মার্কিন কর্মীদের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বানাতে নতুন এই ফি ধার্য হয়েছে, যাদের ‘কম মজুরির বিদেশি কর্মীদের দ্বারা প্রতিস্থাপন’ করা হচ্ছিল।
এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে নতুন ফি ধার্য করে শুক্রবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যে নির্বাহী আদেশ দিয়েছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ পেশাজীবী পাঠানো ভারতীয় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বৈশ্বিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে, শনিবার এমনটাই বলেছে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক কর্তৃপক্ষ নাসকম।
একইদিন বিতরণ করা এক তথ্য বিবরণীতে হোয়াইট হাউস বলেছে, ‘জাতীয় স্বার্থে’ তারা কখনো কখনো এক লাখ ডলার ফি ছাড়াও এইচ-১বি ভিসার আবেদন গ্রহণ করতে পারে।
ওই তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি কর্মীদের মধ্যে এইচ-১বি ভিসাধারীদের সংখ্যা ২০০৩ অর্থবছরেও ছিল ৩২ শতাংশ, অথচ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি ৬৫% ছাড়িয়ে গেছে।
এতে শ্রম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এ ভিসার যাচাই-বাছাই, বিধিনিষেধ, নিরীক্ষা ও জরিমানা বিষয়ক একটি যৌথ নির্দেশিকা জারি এবং শ্রমমন্ত্রীকে ‘এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির বিদ্যমান বেতনকাঠামো সংশোধন’ এবং ‘উঁচুমানের কর্মী ও উঁচু বেতনধারী এইচ-১বি কর্মীদের অগ্রাধিকার’ দিয়ে নিয়মকানুন বানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার এইচ-১বি ভিসায় ‘বাৎসরিক এক লাখ ডলার ফি’ বসানোর খবর শুনে যুক্তরাষ্ট্রের অসংখ্য বহুজাতিক কোম্পানির কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
চীনে থাকা এইচ-১বি ভিসাধারীদের তড়িঘড়ি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার হিড়িক পড়ে বলে দেশটির জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়া অ্যাপ রেডনোটের পোস্টে বোঝা যায়। এর মধ্যে কোনো কোনো ভিসাধারী চীনে নামার কয়েক ঘণ্টা পরই যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত যাওয়ার তোড়জোড় শুরু করেন।
হোয়াইট হাউস বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করেই ট্রাম্প এ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
“জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখতে, বেতনবৈষম্য বন্ধে এবং এই ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার থামানোর উদ্দেশ্যে যে কোম্পানিগুলো এইচ-১বি কর্মসূচিকে কাজে লাগাতে চাইছে তাদের ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বাড়তি খরচ চাপাতে চাইছেন,” বলেছে তারা।
অভিবাসনে খড়্গ: এইচ-১বি ভিসায় বছরে ১ লাখ ডলার ফি বসালেন ট্রাম্প