১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

গাজায় দুর্ভিক্ষের ‘ঝুঁকি প্রবল’: আইপিসি প্রতিবেদন

প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, রাফা সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ থাকার কারণে গাজার দক্ষিণাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে খাবার সরবরাহ অনেকটাই কমে গেছে।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Jun 2024, 07:13 PM

Updated : 26 Aug 2026, 09:52 AM

গাজাজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনি এখনও বিপর্যয়কর মাত্রার ক্ষুধার মুখে আছে এবং দুর্ভিক্ষের প্রবল ঝুঁকি বিরাজ করছে। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ চলতে থাকলে এবং মানবিক ত্রাণ বাধাগ্রস্ত হতে থাকলে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি মিলবে না।

জাতিসংঘ সমর্থিত খাদ্য নিরাপত্তা মূল্যায়ন বিষয়ক সংস্থা আইপিসি’র এক প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে। তবে এতে এও বলা হয় যে, গাজার উত্তরাঞ্চলে কিছু লক্ষণ থেকে সেখানে আপাতত দুর্ভিক্ষ চলার আভাস পাওয়া যায়নি।

অথচ গত মার্চে বলা হয়েছিল উত্তর গাজায় দুর্ভিক্ষ আসন্ন। ‘দ্য ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেইজ ক্লাসিফিকেশন’ (আইপিসি)- এর প্রতিবেদন বলছে, মার্চের পর থেকে উত্তর গাজায় খাবার ও অন্যান্য ত্রাণ সরবরাহ বেড়েছে। পানি, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যসেবাও গতি পেয়েছে।

তবে প্রতিবেদনে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়েছে, রাফা সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ থাকার কারণে গাজার দক্ষিণাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলে খাবার সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে। মে মাসের শুরুতে ইসরায়েল রাফায় স্থল অভিযান শুরু করার পর থেকে সেখানে পরিস্থিতির এই অবনতি হয়েছে। নগরীটি থেকে বাস্তুচ্যুতও হয়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষ।

জাতিসংঘের খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) বলেছে, আইপিসি’র প্রতিবেদনে গাজায় মানুষের অনাহারে থাকার স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে এবং সেখানে মানবিক ত্রাণ সরবরাহ কতটা জরুরি তা এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে।

জাতিসংঘের কর্মকর্তারা গাজার এই পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েলের সেনাবাহিনীর ত্রাণ সরবরাহে বাধা দেওয়া, চলমান অভিযান এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়াকে দায়ী করেছেন।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে হামাস ১২০০ মানুষ হত্যা এবং আড়াইশ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নির্মূল করতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি সেনারা।

এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় গাজায় ৩৭ হাজার ৩৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সেখানকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে কতজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছে তার কোনো তথ্য না থাকলেও এপ্রিল পর্যন্ত শিশু, নারী ও বয়স্ক মিলিয়ে ১৪ হাজার ৬৮০ জন মারা গেছে।