Published : 12 Jun 2026, 03:37 PM
থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের বড় মেয়ে রাজকুমারী বাজরাকিতিয়াভা মারা গেছেন। তিনি তিন বছরেরও বেশি সময় কোমায় ছিলেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৭ বছর।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে তিনি পোষা কুকুরদের নিয়ে হাঁটার সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে যান। চিকিৎসকরা জানান, তার হৃদযন্ত্রে মাইকোপ্লাজমা সংক্রমণের কারণে হৃদস্পন্দন মারাত্মকভাবে অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল। সে কারণে তিনি কোমায় চলে গিয়েছিলেন।
রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে শুক্রবার বলা হয়, চিকিৎসকরা রাজকুমারীকে সর্বোচ্চ ও নিবিড় চিকিৎসা সেবা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হতে থাকে। ব্যাংককের চুলালংকর্ন হাসপাতালে এদিন স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৮ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুতে থাই রাজপরিবার তাদের সবচেয়ে সাফল্য অর্জন করা সদস্যদের একজনকে হারাল। বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার প্রশ্নেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতেন।
থাইল্যান্ডের রাজা মাহা ভাজিরালংকর্নের সাত সন্তানের মধ্যে সবচেয়ে বড় মেয়ে বাজরাকিতিয়াভা ১৯৭৮ সালের ৭ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তার মা ছিলেন রাজার প্রথম স্ত্রী ও কাজিন সোয়ামসাওয়ালি।
আইনজীবী হিসেবে প্রশিক্ষণ নেওয়া বাজরাকিতিয়াভা যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুইটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ মিশনে অল্প সময় কাজ করেন। এরপর থাইল্যান্ডে ফিরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি অস্ট্রিয়ায় থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত ছিলেন এবং জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধ দপ্তরের (ইউএনওডিসি) সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
তিনি কারাগারে থাকা নারীদের অবস্থা ও বিচারব্যবস্থা সংস্কারের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করতেন। কারাগারে থাকা নারীদের উন্নত জীবনযাপন ও ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করার পক্ষে তিনি ছিলেন সোচ্চার।
২০২১ সালে বাজরাকিতিয়াভার বাবা তাকে ব্যক্তিগত রাজকীয় দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন, যেখানে তিনি জেনারেল পদমর্যাদা পান।
ফিটনেস অনুরাগী এই রাজকুমারী প্রায়ই দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়েও অংশ নিতেন। বাজরাকিতিয়াভার দক্ষতা এবং তার ওপর বাবার অগাধ আস্থার কারণে থাই রাজপরিবারে তার উত্তরাধিকার নিয়েও নানা গুঞ্জন ছিল।
বর্তমান রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ন এখনও সিংহাসনের কোনও উত্তরসূরি ঘোষণা করেননি। থাই রীতি অনুযায়ী সাধারণত পুরুষ উত্তরাধিকারীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তবে ১৯৭৪ সালের সংবিধান সংশোধনী অনুযায়ী নারীও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হতে পারেন।