Published : 19 Apr 2026, 05:18 PM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের দিক থেকে কিউবার প্রতি ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে দ্বীপদেশটির সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন মেক্সিকো, স্পেন ও ব্রাজিলের নেতারা।
বার্সেলোনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বামপন্থি নেতারা জড়ো হওয়ার পর শনিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তিন দেশ কিউবার জনগণকে যে চরম দুর্ভোগ মোকাবেলা করতে হচ্ছে তা নিয়েও ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
১৯৬০ এর দশক থেকেই কিউবা মার্কিন বাণিজ্য অবরোধের মুখে রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ক্যারিবীয় দ্বীপদেশটির কমিউনিস্ট সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে। তাদের লক্ষ্য দেশটির নেতৃত্বে বদল আনা।
জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প কিউবায় ভেনেজুয়েলার তেল ঢোকা বন্ধ করে দিয়েছে এবং যেসব দেশ কমিউনিস্ট পার্টিশাসিত দেশটিতে তেল পাঠাবে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়ে রেখেছে।
বিবৃতিতে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা কিউবার বিরুদ্ধে ‘আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি’ পদক্ষেপ নেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন।
এতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে জাতিসংঘ সনদে থাকা ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা, সবার সার্বভৌমত্মকে সমান চোখে দেখা ও যে কোনো বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়।
তিন দেশের এ বামপন্থি নেতারা বিবৃতিতে জোরের সঙ্গে বলেন, যে কোনো সমাধানেই কিউবার জনগণকে অবাধে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ দিতে হবে।
দিন কয়েক আগেই ট্রাম্প কিউবার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে ইঙ্গিত দিয়ে বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরই তার নজর দ্বীপরাষ্ট্রটির দিকে পড়তে পারে।
কিউবার সঙ্কটের পেছনে মার্কিন নীতি দায়ী—ট্রাম্প প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে, দেশটির অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণেই তাদের জনগণ ভুগছে।
তবে ট্রাম্পের এমন হুমকির মুখেও কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল ‘মাথা নত না করার’ মনোভাব দেখিয়েছেন।
কিংবদন্তি বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রো ১৯৬১ সালের ১৬ এপ্রিল কিউবার বিপ্লবকে ‘সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব’ আখ্যা দিয়েছিলেন। তার ৬৫তম বর্ষপূর্তিতে দেওয়া বক্তৃতায় বৃহস্পতিবার দিয়াস-কানেল কিউবার ওপর সামরিক আগ্রাসনসগ গুরুতর সব হুমকির ব্যাপারে সতর্ক করেন।
“আমরা এমন কিছু চাই না, কিন্তু আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে এগুলো এড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া, আর যদি তা অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে তবে তাকে পরাজিত করা,” বলেছেন তিনি।
বার্সেলোনায় বামপন্থি নেতাদের এ সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিল বহুপাক্ষিকতার সমর্থনে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তুলে ধরা।
এতে স্পেনের সানচেজ ডানপন্থি জনতুষ্টিবাদকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তবে তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম নেননি।
“তারা যেভাবে বিশ্বকে শৃঙ্খলিত দেখতে চায়, শুল্ক আর যুদ্ধের কারণে সেটা ভেঙে পড়ছে,” বলেন তিনি।
ট্রাম্প পরে তার ট্রুথ সোশালে সানচেজকে একহাত নেন। স্পেনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে তিনি ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ায় এবং প্রতিরক্ষা খাতে কম খরচ করায় ইউরোপের দেশটির কড়া সমালোচনাও করেন।