Published : 25 Jul 2026, 05:31 PM
রং ও রাসায়নিকের ওপর নির্ভরশীল রপ্তানিমুখী পণ্যের কাঁচামালের পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়ায় যে দীর্ঘসূত্রিতা রয়েছে তা দেশের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে ‘বাধাগ্রস্ত’ করছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
ব্যবসায়ী এ নেতার ভাষ্য, “দেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া এবং ওষুধ শিল্পের রপ্তানি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতায় টিকে থাকার বিষয়টি বহুলাংশেই রাসায়নিক পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সাপ্লাইচেইনের উপর অনেকাংশে নির্ভরশীল|
“তবে দেশের শিল্পখাতে ব্যবহৃত রং, রাসায়নিক এবং বিশেষায়িত শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল প্রভৃতির আমদানি নির্ভরতা, শুল্ক জটিলতা, পরিবেশগত অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা এবং লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা আমাদের সামগ্রিক শিল্পের প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।”
শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিতে (ডিসিসিআই) ‘রাসায়নিক নির্ভর রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দেশে রাসায়নিক খাতের বাজার ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও অতিমাত্রায় আমদানি নির্ভরশীলতা, শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া, উচ্চ শুল্কহারসহ সরকারি সেবা এবং লাইসেন্স প্রাপ্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রিতার জন্য নানান সংকটের কথা বলে আসছেন ব্যবসায়ীরা।
একইসঙ্গে লজিস্টিক অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে সম্ভাবনাময় এ শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করা হয় সেমিনারে।
তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের রপ্তানিখাতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে সক্ষমতা বাড়াতে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং এটির কৌশলগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) মহাপরিচালক সলিম উল্লাহ বলেন, “সরকারের শিল্প নীতিমালা সংষ্কারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, তাই রাসায়নিক খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের উন্নয়নে কি আলাদা নীতিমালা প্রয়োজন অথবা বিদ্যমান শিল্প নীতিতে একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করলেই চলবে, সে বিষয়ে উদ্যোক্তাদের সিদ্ধান্ত সরকারকে জানানো হলে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হবে।”
দেশের অর্থনীতির সামগ্রিক উন্নয়নে বিশেষকরে দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকার ও বেসরকারিখাতের একযোগ কাজ করার উপর তিনি জোরারোপ করেন।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) সদস্য আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বলেন, শিল্প ও শিক্ষাখাতের মধ্যকার সমন্বয় বাড়ানো প্রয়োজন।
বিসিএসআইআরের গবেষণায় প্রাপ্ত ফল ও উৎপাদিত পণ্য ব্যবহারের জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
বালিগুর বলেন, “হালকা প্রকৌশল শিল্পে আমাদের বাজার প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার, তবে এর সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রাপ্তি নিশ্চিতসহ সহায়ক নীতি সহায়তা প্রদান একান্ত অপরিহার্য।”
অনুষ্ঠানে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এস আর ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রাব্বানী।
তিনি বলেন, “আমাদের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক খাতের বাজার ৬-৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের, যা প্রতিবছর ১০-১৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ৬ তশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের রাসায়ানিক আমদানি করেছে, যার বেশিরভাগই তৈরি পোশাক, ঔষধ ও চামড়া খাতে ব্যবহৃত হয়।”