Published : 25 Feb 2026, 06:55 PM
জাপান ২০৩১ সালের মার্চের মধ্যে তাইওয়ানের কাছে অবস্থিত তাদের পশ্চিমাঞ্চলীয় দুর্গম দ্বীপে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
২০২২ সালেই জাপান তাদের ইয়োনাগুনি দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিল, তবে এবার ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিত উত্তেজনার মধ্যেই তারা সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাল, বলছে বিবিসি।
স্বশাসিত তাইওয়ানকে চীন তার নিজের ভূখণ্ড মনে করে। দ্বীপটিকে বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে ‘বল প্রয়োগেরও’ হুমকি দিয়ে রেখেছে তারা।
রৌদ্রজ্জ্বল দিনে তাইওয়ানের উপকূল থেকে ১১০ কিলোমিটার দূরের ইয়োনাগুনিকে স্পষ্ট দেখা যায়।
তাইওয়ানে কোনো হামলা হলে টোকিও তার আত্মরক্ষা বাহিনীকে সক্রিয় করবে, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নভেম্বরে এমন ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই বেইজিংয়ের সঙ্গে জাপানের উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে।
তাইওয়ানে চীনের হামলা ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের সূচনা করতে পারে, যাতে এশিয়ায় জাপানের মতো যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মিত্ররাও জড়িয়ে পড়তে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা।
পার্লামেন্টে দেওয়া তাকাইচির ওই মন্তব্য চীনের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক অনেক বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। বেইজিং নানা উপায়ে টোকিওর ওপর চাপও বাড়িয়ে যাচ্ছে। তারা জাপানের কাছে নিয়মিত যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে, বিরল খনিজ রপ্তানি সীমিত করেছে, চীনা পর্যটকদের জাপান যাওয়া কমিয়ে দিয়েছে, কনসার্ট বন্ধ করেছে, এমনকী পান্ডাও ফেরত নিয়েছে।
মঙ্গলবার জাপানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ক্ষেপণাস্ত্র বসানোর সময়সীমা ঘোষণা করার একদিন আগেই চীন ‘জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগকে’ উদ্ধৃত করে ২০ জাপানি কোম্পানি ও সত্তার ওপর রপ্তানি বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
কোইজুমি বলেছেন, ইয়োনাগুনি ইউনিটকে তারা স্বল্প পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রে সজ্জিত করতে যাচ্ছেন যেন তারা আগত উড়োজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্রকে প্রতিহত করতে পারে।
৩৬০ ডিগ্রিতে ঘুরতে সক্ষম, ৫০ কিলোমিটার পাল্লার জাপান-নির্মিত এ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা একসঙ্গে ১০০টি লক্ষ্যকে নজরে রাখতে পারে এবং একইসময়ে ১২টি নিশানায় আঘাত হানতে পারে।
চীন এখন পর্যন্ত কোইজুমির ঘোষণা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কিন্তু নভেম্বরে জাপানি এ প্রতিরক্ষামন্ত্রী যখন নভেম্বরে ইয়োনাগুনি সফর করেছিলেন, বেইজিং তখন অভিযোগ করে বলেছিল, জাপান ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা সৃষ্টি ও সামরিক সংঘাত উসকে দেওয়ার’ পথে হাঁটছে।
এর কয়েক দিন পর চীন ওই দ্বীপের কাছ দিয়ে ড্রোন উড়িয়ে নিজেদের রাগ দেখিয়েছিল, এর পাল্টায় তড়িঘড়ি জাপানও তাদের যুদ্ধবিমান পাঠায়।
চলতি মাসের শুরুর দিকে পার্লামেন্ট নির্বাচনে তাকাইচির বিরাট জয় জাপানের প্রতিরক্ষা ব্যয় কয়েকগুণ বাড়ানোর পথ করে দেওয়ায় ইয়োনগুনি দ্বীপ নিয়ে কোইজুমির ঘোষণাকে টোকিওর আগ্রাসী সামরিক নীতির শুরুর অধ্যায় বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত এক দশকে জাপান নির্জীব ইয়োনাগুনিকে সামরিক চৌকিতে পরিণত করেছে, সেখান থেকেই উপকূলীয় নজরদারি চলছে। দ্বীপটিতে জাপানের আত্মরক্ষা বাহিনীর ১৬০ জনের মতো সদস্য মোতায়েন আছে।
২০২৬ অর্থ বছরেই সেখানে রেডার ও শত্রুপক্ষের যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটাতে সক্ষম ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট বসানোর কথা রয়েছে। এ বছরের এপ্রিল থেকে আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত জাপানের অর্থবছর থাকবে।
“স্থাপনাটির উন্নয়ন কাজে অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট মোতায়েনের সময়সীমায় হেরফের হতে পারে, তবে আপাতত পরিকল্পনা হচ্ছে ২০৩০ অর্থবছরের মধ্যে মোতায়েন করা,” বলেছেন কোইজুমি।