Published : 19 Apr 2026, 03:45 PM
মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত গণতান্ত্রিতভাবে নির্বাচিত সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট ইউ উইন মিন পাঁচ বছরেরও বেশি সময় কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন।
শুক্রবার ঐতিহ্যবাহী নতুন বছর উপলক্ষ্যে ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি পেয়েছেন তিনি, জানিয়েছে মিয়ানমারের সংবাদ মাধ্যম।
ইরাওয়াডি জানিয়েছে, কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি রাজধানী নেপিডোতে নিজ পরিবারের সঙ্গে মিলিত হয়েছেন। তিনি কোনো আইন ভাঙেননি বলে দাবি করেছেন।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নোবেলে শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করে। তার পরপরই সু চি, উইন মিনসহ সদ্য ক্ষমতাচ্যুত ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসির (এনএলডি) নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তার করে বন্দি করে রাখে।
পরে দুর্নীতি ও অন্যান্য অভিযোগের দায়ে উইন মিনকে সাড়ে নয় বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার সাড়ে চার বছর আগে তাকে মুক্তি দেওয়া হল। এর আগে একই সাধারণ ক্ষমার আওতায় সু চির (৮০) সাজার মেয়াদ হ্রাস করা হয়েছিল।
দুর্নীতিসহ অন্য যেসব অভিযোগে তাদের সাজা দেওয়া হয়েছে সেগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। সু চি ও ইউনকে মুক্তি দেওয়ার জন্য জাতিসংঘ, আসিয়ান ও বিশ্ব সম্প্রদায় বারবার আহ্বান জানিয়েছে।
অবশেষে সামরিক জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং সামরিক বাহিনীর সমর্থনে প্রতিষ্ঠিত পার্লামেন্টের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার এক সপ্তাহ পর মুক্তি পেলেন উইন মিন (৭৫) ।
শুক্রবার সকালে তাউঙ্গু কারাগার থেকে বের হওয়ার পর উইন নেপিডোতে তাদের ভাড়া বাড়িতে গিয়ে ওঠেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের নির্দেশনায় উইন মিনকে মুক্তি দেওয়া হতে পারে। সম্প্রতি মিয়ানমারে যে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে বেইজিং তার জন্যও চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে উল্লেখ করেছেন তারা।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভশনের খবরে বলা হয়েছে, নতুন প্রেসিডেন্ট হ্লাইং ৪৩৩৫ জন বন্দির জন্য সাধারণ ক্ষমা মঞ্জুর করেছেন।
এই নিয়ে গত ছয় মাসে তিনবার এ ধরনের পদক্ষেপ নিল মিয়ানমার। দেশটি সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারিতে স্বাধীনতা দিবস ও এপ্রিলে নতুন বছর উপলক্ষ্যে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে থাকে।