Published : 05 Nov 2025, 08:44 PM
জমিসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পত্তি কেনায় চীনা নাগরিকদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপে ফ্লোরিডার পথের কাঁটা সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন এক আপিল আদালত।
এ সংক্রান্ত ফ্লোরিডার আইন মার্কিন ফেডারেল আইনের লঙ্ঘন এবং এশীদের প্রতি বৈষম্যমূলক এমন যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার আটলান্টাভিত্তিক ১১তম মার্কিন সার্কিট কোর্ট অব আপিলসের বিচারকরা ২-১ ভোটে ফ্লোরিডার আইনের পক্ষে রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তাদের এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্য রাজ্যগুলোকেও তথাকথিত এই ‘এলিয়েন ল্যান্ড ল’জ’ বাস্তবায়নে অনুপ্রাণিত করতে পারে। একসময় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এ আইনের ব্যাপক প্রচলন থাকলেও বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে শতাব্দীকাল আগেই এর আবেদন শেষ হয়ে যায়।
এখন ৩০টির বেশি অঙ্গরাজ্যে সম্পত্তিতে বিদেশিদের মালিকানা সীমিত করার প্রস্তাব সম্বলিত বিল হয় পাস বা উত্থাপিত হয়েছে।
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের হয়ে যে চার চীনা নাগরিক ফ্লোরিডার ২০২৩ সালের আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন, তাদের মামলা করার অধিকার নেই বলেও মন্তব্য করেছে আপিল আদালত। বলেছে, এটি কেবল তাদের ওপর বলবৎ হবে যারা চীনে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন এবং সেখানেই তাদের স্থায়ী ঠিকানা। কিন্তু যারা মামলা করেছেন, তারা অনেক বছর ধরেই ফ্লোরিডায় বসবাস করছেন।
“জাতীয় নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত মালিকানা, ভূমি ও খাদ্য নিরাপত্তার উদ্বেগ থেকেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে,” রায়ে লিখেছেন সার্কিট বিচারক রবার্ট লাক।
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমেয়ারের কার্যালয় এবং আমেরিকান সিভিল লিবার্টি ইউনিয়ন রায়ের বিষয়ে এখনো মন্তব্য করেননি।
গত বছর ১১তম সার্কিট আদালতের আরেকটি প্যানেল ফ্লোরিডার আইনটি আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাস্তবায়নের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল।
২০২৩ সালের এ আইন অনুযায়ী, যারা চীনে বসবাসরত এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী নন, তারা ফ্লোরিডায় জমি বা রিয়েল এস্টেট কিনতে পারবেন না।
পর্যটক ভিসা ছাড়া অন্য ভিসাধারীরা এবং আশ্রয়প্রার্থীরা সর্বোচ্চ দুই একর আকারের একটি আবাসিক সম্পত্তি কিনতে পারবেন, তবে সেটিও হতে হবে যে কোনো সামরিক স্থাপনা থেকে অন্তত ৫ মাইল (৮ কিমি) দূরে।
আইনটিতে স্বাক্ষর করার সময় রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস বলেছিলেন, “এই আইন যুক্তরাষ্ট্রকে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করবে।”
মঙ্গলবারের রায়ে লাকের সঙ্গে একমত হয়েছেন বিচারপতি বারবারা লাগোয়া, তাকে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ আপিল আদালতে নিয়োগ দেন। এ দুই বিচারকই আগে ফ্লোরিডা সুপ্রিম কোর্টে ডিস্যান্টিসের মনোনীত বিচারক ছিলেন।
রায়ে ভিন্নমত দিয়েছেন বিচারপতি চার্লস উইলসন। বলেছেন, বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ন্ত্রণ ‘একান্তই ফেডারেল সরকারের এখতিয়ার’ এবং ফ্লোরিডার আইনটি ফেডারেল আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। উইলসনকে নিয়োগ দিয়েছিলেন সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।