Published : 05 Jun 2026, 12:47 AM
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে নজিরবিহীন পরাজয়ের মুখে পড়েছে জার্মানি।
ইসরায়েলকে বার্লিনের সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়ে যাওয়ার কারণে এই ‘তিক্ত পরাজয়’ হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল|
ওদিকে, রাশিয়াকে এই পরাজয়ের জন্য দোষারোপ করে তিনি বলেন, ইউক্রেইনকে বার্লিনের দেওয়া দৃঢ় সমর্থনের কারণে মস্কো নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানির বিরুদ্ধে কাজ করেছে।
২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে বুধবার জার্মানি পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়ার কাছে বিশাল ব্যবধানে হেরে যায়।
প্রয়োজনীয় ১২৭ ভোটের বিপরীতে জার্মানি পায় মাত্র ১০৪ ভোট। ওদিকে, পর্তুগাল পায় ১৩৪ ভোট এবং অস্ট্রিয়া পায় ১৩১ ভোট।
অথচ এই নির্বাচন হওয়ার কয়েকঘণ্টা আগেও জার্মানি জয়ের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছিল। নির্বাচনে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো এবং জিম্বাবুয়েও নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।
জার্মানির হারের জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল রাশিয়ার গোপন লবিং ও প্রচারকে দায়ী করেছেন। তার মতে, ইউক্রেইনকে দেওয়া জার্মানির অবিচল সমর্থন এবং যুদ্ধবিরোধী অবস্থান রাশিয়া মেনে নিতে পারেনি।
নিরাপত্তা পরিষদে জার্মানির সোচ্চার কণ্ঠস্বর যেন না থাকে, সেজন্য রাশিয়া সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি বিরোধী মনোভাব তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, “এটি কোনও গোপন বিষয় নয়।” জার্মানি বর্তমানে ইউক্রেইনকে সবচেয়ে বেশি সামরিক সাহায্য দাতা দেশ।
ওদিকে, গাজায় যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে জার্মানি বরাবরই চাপের মুখে ছিল।
কিন্তু ইসরায়েলকে জার্মানির সমর্থন দিয়ে যাওয়াটা গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করে, যা নির্বাচনে তাদের ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা সবসময় কিছু বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি। সেই অবস্থান সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে মেলে না।” গাজা সংঘাতে ইসরায়েলের প্রতি জার্মানির দায়িত্ববোধ ভোট হারানোর একটি কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তাছাড়া, নিরাপত্তা পরিষদের দুই বছরের মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জার্মানির দেরিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকেও ভাদেফুল হারের জন্য দায়ী করেন।
এই পরাজয় জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্ৎসের জন্যও একটি ধাক্কা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদ পেতে তার সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বিরোধীরা বলছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জার্মানির অবস্থান শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া ম্যার্ৎসের জন্য এই পরাজয় বিদেশে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
তবে ম্যার্ৎস বলেছেন, জার্মানি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
তিনি অস্ট্রিয়া ও পর্তুগালকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “এই ফলের কারণে জাতিসংঘে আমাদের দায়িত্ব বদলে যাবে না। জার্মানি বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার একটি নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ হিসেবেই থাকবে।”
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য সংখ্যা মোট ১৫। এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী সদস্য দেশ হল: চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র।
এই পাঁচ দেশের যে কোনও প্রস্তাবে ভিটো দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আর অস্থায়ী সদস্য দেশ ১০টি। এই অস্থায়ী সদস্যরা দুই বছর মেয়াদের জন্য নির্বাচিত হয়। প্রতি বছর পাঁচটি করে নতুন অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়।