Published : 17 Dec 2025, 02:39 PM
পাকিস্তানের কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক প্রধান তার নয়া পুঞ্জীভূত ক্ষমতা নিয়ে সবচেয়ে কঠিন সমস্যার মধ্যে পড়েছেন, কারণ গাজা স্টেবালাইজেশন ফোর্সে সেনা পাঠানোর জন্য ইসলামাবাদকে চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসলামাবাদ এমন পদক্ষেপ নিলে তাতে পাকিস্তানজুড়ে প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো সাক্ষাৎ করার জন্য ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে উড়াল দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই সাক্ষাতের প্রধান বিষয় হতে পারে গাজা স্টেবালাইজেশন ফোর্স।
এই দুই সূত্রের মধ্যে একজন মুনিরের অর্থনৈতিক কূটনীতির একজন প্রধান চরিত্র বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।
ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা পরিকল্পনায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ছিটমহলটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে একটি রূপান্তরকালীন সময়কাল তত্ত্বাবধানের জন্য মুসলিম দেশগুলো থেকে বাহিনী এনে মোতায়েনের আহ্বান জানানো হয়েছে। দুই বছর ধরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর বোমা হামলায় গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করার এই মিশন নিয়ে অনেক দেশই সতর্ক। দেশগুলোর আশঙ্কা, এই করতে গিয়ে তাদের বাহিনীগুলো সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে আর তাতে তাদের দেশের ফিলিস্তিনপন্থি ও ইসরায়েলবিরোধী জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু মুনির ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের মধ্যে কয়েক বছর ধরে বিদ্যমান অবিশ্বাস দূর করতে পরিবর্তনশীল মেজাজের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। ট্রাম্প তাকে হোয়াইট হাউজে মধ্যাহ্নভোজে আপ্যায়িত করে সম্মান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধানকে বেসামরিক কর্মকর্তাদের সান্নিধ্য ছাড়াই এককভাবে আতিথেয়তা দেওয়া প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিনি।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কাগেলম্যান বলেন, “(গাজা স্টেবালাইজেশন ফোর্সে) অবদান না রাখলে ট্রাম্প অসন্তুষ্ট হতে পারেন। এটি পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্য কোনো ছোট বিষয় না কারণ মার্কিন বিনিয়োগ ও নিরাপত্তা সহায়তা নিশ্চিত রাখার জন্য তারা তার ভালো নজরে থাকতে সচেষ্ট বলে মনে হচ্ছে।
পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রধারী একমাত্র মুসলিম দেশ। তাদের একটি যুদ্ধ অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী আছে যারা আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের সঙ্গে তিনবার যুদ্ধে জড়িয়েছে আর চলতি বছরের গ্রীষ্মে একটি সংক্ষিপ্ত সংঘাতে লিপ্ত হয়েছে। দেশটি প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে বিভিন্ন বিদ্রোহেরও মোকাবেলা করে আসছে আর এখন ইসলামপন্থি জঙ্গিদের সঙ্গে প্রাণঘাতী এক লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছে যারা আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ ইসলামাবাদের।
লেখক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক আয়েশা সিদ্দিক বলেন, “পাকিস্তানের সামরিক শক্তির অর্থ হল তার ক্ষমতা প্রয়োগের জন্য মুনিরের ওপর আরও বেশি চাপ রয়েছে।”
রয়টার্স জানিয়েছে, এসব প্রসঙ্গ নিয়ে তাদের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউজও সাড়া দেয়নি।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার গত মাসে বলেছিলেন, সেনা দিয়ে শান্তিরক্ষার জন্য অবদান রাখার কথা ইসলামাবাদ বিবেচনা করতে পারে কিন্তু হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ করা ‘আমাদের কাজ নয়’।