Published : 28 Mar 2026, 08:49 PM
ইরান যুদ্ধ নিরসনে আলোচনার পথ খুঁজছে পাকিস্তান। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও মিশরের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসছে ইসলামাবাদ।
শনিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ‘আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন’।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এই বৈঠকের লক্ষ্য সম্পর্কে বলেন, উত্তেজনা কমানোর জন্য একটি কার্যকর পদ্ধতি খুঁজে বের করাই তাদের উদ্দেশ্য।
শুক্রবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এই যুদ্ধের আলোচনা কোন দিকে যাচ্ছে, চার দেশ বর্তমান পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে আর কী করা যেতে পারে, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করবো।”
রয়টার্স লিখেছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা এই যুদ্ধ থামাতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই চারটি দেশ। যুদ্ধের ফলে জ্বালানি সরবরাহ এবং বাণিজ্যিক পথগুলো ঝুঁকির মুখে পড়ায় দেশগুলো বেশ উদ্বিগ্ন।
পাকিস্তান ইতিমধ্যে তেহরানের কাছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব পৌঁছে দিয়েছে এবং আলোচনার জন্য নিজেদের দেশ ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যেকোনো আলোচনা পাকিস্তান অথবা তুরস্কে হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ‘খুব ভালো’ চলছে, তবে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।
সূত্রমতে, ইরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে একজন ইরানি কর্মকর্তা একে ‘একতরফা ও অন্যায্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। এই প্রস্তাবের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ কমানো এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া।
শনিবার ইস্তাম্বুলে এক সম্মেলনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান বলেন, বর্তমান বিশ্বের ব্যবস্থায় জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পথগুলো রক্ষা করা জরুরি। তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য হলো বিশ্ব অর্থনীতি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই যুদ্ধ বন্ধে ‘দ্রুত ও কার্যকর’ পদক্ষেপ নেওয়া।