Published : 16 Jul 2026, 05:49 PM
নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ঢাকায় সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টায় স্বামীবাগ আশ্রম থেকে শুরু হয় জগন্নাথ, বলদেব ও শুভদ্রার রথযাত্রা।
এটি জয়কালী মন্দির হয়ে শাপলা চত্বর আসে। তারপর পল্টন মোড়, সচিবালয় মেট্রো স্টেশন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, হাই কোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে।
এতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঢল নামে। রথ থেকে প্রসাদস্বরুপ ভক্তদের বিভিন্ন ফলমূল বিতরণ করা হয়।
এর আগে আলোচনা অনুষ্ঠান, হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামনায় ‘অগ্নিহোত্র যজ্ঞ’ করা হয়।
প্রতিবারের মতো এবারও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণ কনসাসনেস (ইসকন) রথযাত্রার আয়োজন করে।
উদযাপনের নবম দিন ২৪ জুলাই (শুক্রবার) উল্টোরথ যাত্রা শুরু হবে। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে একই পথে পুনরায় ইসকনের স্বামীবাগ আশ্রমে রথযাত্রার সমাপ্তি ঘটবে।

মাঝের দিনগুলোতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত স্বামীবাগ আশ্রমে বিভিন্ন ধরনের আচার অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে—মহাপ্রসাদ বিতরণ, জগন্নাথ লীলামৃত, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত পাঠ, কীর্তন মেলা, পদাবলী কীর্তন, আরতি কীর্তন, ভগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, ধর্মীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও ধর্মীয় নাটক মঞ্চায়নসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
সনাতন ধর্মীয় রীতিতে আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে এ রথযাত্রা শুরু হয়ে থাকে এবং একাদশী তিথিতে শুরু হয় ফিরতি রথ। প্রথম দিন যেখান থেকে যাত্রা শুরু হয় আটদিন পর আবার সেখানেই তা ফিরিয়ে আনা হয়, ভক্তদের কাছে যা উল্টো রথ নামে পরিচিত।
ভক্তদের বিশ্বাস, জগন্নাথ দেবই জগতের নাথ বা অধীশ্বর। তার অনুগ্রহ পেলেই মানুষের মুক্তিলাভ হয়।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস মতে, রথোপরি বামন বা জগন্নাথকে দেখতে পেলে জীব পুনর্জন্মের ধারা থেকে রক্ষা পায়। আর তাই জগন্নাথদেবের কৃপা প্রার্থনা করে পালন করা হয় রথযাত্রার আনুষ্ঠানিকতা।
জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার প্রধান কেন্দ্র উড়িষ্যার সমুদ্রতীরবর্তী পুরীধাম। সেখানকার রথযাত্রার অনুসরণেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার উৎসব পালিত হয়।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, জগন্নাথ ও বলরাম দুইভাইয়ের কাছে একবার বোন সুভদ্রা নিজ নগর ভ্রমণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। বোনের ইচ্ছা পূরণের জন্য দুই ভাই মিলে একটি বিশাল রথ প্রস্তুত করেন এবং তাতে চড়ে তিনজনই নগর ভ্রমণে বের হন।
মাঝপথে তারা গুন্ডিচায় মাসির বাড়িতে গিয়েছিলেন এবং সেখানে সাতদিন অবস্থান করেছিলেন। নবম দিনে নগর ভ্রমণ শেষ করে তারা পুরীতে ফিরে আসেন। তারপর থেকে প্রতি বছর তিন ভাই-বোন তাদের রথে নগর ভ্রমণে যান এবং তাদের মাসির বাড়ি গুন্ডিচা মন্দিরে যান। এর মধ্যে বলরাম রথের সামনে, বোন সুভদ্রা মাঝখানে এবং জগন্নাথ রথের পেছনে থাকেন।
ইসকন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক নিতাই স্বামী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের অনুষ্ঠানমালা প্রতিবছরের ন্যায়ই হয়। রথযাত্রার দিন থেকে উল্টো রথযাত্রা পর্যন্তই প্রতিদিনই আমাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান নির্ধারণ করা রয়েছে। শোভাযাত্রার প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ পথে ভক্তদের জন্য পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ইসকন বাংলাদেশের সভাপতি সত্যরঞ্জন বাড়ৈ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে একাধিক বৈঠক করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়েছি। এছাড়াও আমাদের ইসকনের নিজস্ব পোশাকে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে থাকবেন অর্ধ সহস্রাধিক।”