১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

পশ্চিম তীরের প্রাচীন খ্রিষ্টান গ্রাম তাইবেতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের আগুন

স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, রামাল্লা জেলাসহ পুরো পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jun 2026, 04:37 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:22 PM

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে খ্রিষ্টান অধ্যুষিত ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনি গ্রাম তাইবের কৃষিজমি ও জলপাই বাগানে আগুন দিয়েছে অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা।

ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যমগুলো মঙ্গলবারের ওই ঘটনার খবর প্রকাশ করে। পরে ইসরায়েলি সংবাদপত্র টাইমস অব ইসরায়েলও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ ঘটনা আড়ালেই থেকে গেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলোর বরাতে খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার রামাল্লার পূর্বাঞ্চলে তাইবে গ্রামের উপকণ্ঠে একটি পাহাড়ি ঢালে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দল আগুন দেয়। গ্রামবাসী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন শুকনো খেত ও জলপাই বাগানে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও স্থানীয় কৃষকদের আয়ের অন্যতম উৎস কৃষিজমি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই হামলার পর গ্রামের পূর্ব প্রান্তে বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি খ্রিষ্টান অধ্যুষিত গ্রামগুলোর একটি তাইবে। এই গ্রামটির রয়েছে গভীর ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব। এ গ্রামে রয়েছে প্রাচীন ‘সেন্ট জর্জ গির্জা’, যা নির্মিত হয়েছিল পঞ্চম শতাব্দীতে। 

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এলাকাটি একাধিক হামলার শিকার হয়েছে। এর আগে সেখানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ভবন ও যানবাহনে বর্ণবাদী গ্রাফিতি আঁকার ঘটনাও ঘটেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘থ্রেডস’-এ মঙ্গলবারের ঘটনার একটি ভিডিও পোস্ট করে রাজনীতি বিশ্লেষক ফারানাজ ইব্রাইমো লিখেছেন, “অধিকৃত ফিলিস্তিনের প্রাচীন খ্রিষ্টান গ্রাম তাইবেতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা আগুন দিচ্ছে। পঞ্চম শতাব্দীর সেন্ট জর্জ গির্জা এখন হুমকির মুখে। বাড়িঘর জ্বলছে। 

“লাজারাসের ঘটনার পর যিশু এই স্থানেই আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন একটি খ্রিষ্টান জনপদ। অথচ এ খবরটি সেভাবে সংবাদমাধ্যমে আসছে না।”

গত বছর এই গ্রামে বসতি স্থাপনকারীদের এমনই এক হামলার পর ইসরায়েলে নিযুক্ত তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি তাইবে গ্রাম পরিদর্শন করেছিলেন। সে সময় তিনি এই অগ্নিসংযোগকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আখ্যায়িত করে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছিলেন।

জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের (ওচা) প্রতিবেদনেও ২০২৩ সাল থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা উদ্বেগজনক হারে বাড়ার তথ্য এসেছে। কৃষিজমিতে আগুন দেওয়া, সম্পত্তি ধ্বংস এবং কৃষকদের ওপর হামলার ঘটনা এখন নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওচার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলার সময় ইসরায়েলি বাহিনী প্রায়ই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে, নয়ত বসতি স্থাপনকারীদের নিরাপত্তা দিতে তাদের সঙ্গে অবস্থান করে। জাতিসংঘের ভাষায়, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে এই ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতি’ আরও বড় ধরনের সহিংসতার পথ তৈরি করে দিচ্ছে।

স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, রামাল্লা জেলাসহ পুরো পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে। 

পাহাড়ের চূড়াগুলো দখল, চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া এবং ফিলিস্তিনি কৃষকদের নিজেদের জমি ছাড়তে বাধ্য করতেই মূলত কৃষিজমিতে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো ঘটছে।

স্থানীয় গির্জার নেতারাও জনপ্রতিনিধিরা সতর্ক করে বলেছেন, তাইবেকে ঘিরে সহিংসতা বৃদ্ধি পেলে গ্রামের স্থিতিশীলতা এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে।