সম্পদের হিসাব না দেওয়ায় এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড
রায় শুনে সাবেক এ ডেপুটি গভর্নর বলেন, “তিন বছরের সাজা! এই মামলায় না এক বছরের সাজা?”
সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর ওরফে এসকে সুর চৌধুরীকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার দ্বিতীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন।
দুদকের কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ সাজার এ তথ্য বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এস কে সুরকে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পৌনে ১১টার দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়, রাখা হয় আসামির কাঠগড়ায়। পরে আদালত রায় ঘোষণা করে।
তিন বছরের সাজা শুনে বিস্মিত হন এস কে সুর। তিনি বলেন, “তিন বছরের সাজা! এই মামলায় না এক বছরের সাজা?”
পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
দুদক ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গেল ১৫ জুলাই মামলার রায়ের দিন ঠিক করা হয়।
সেদিন যুক্তিতর্ক তুলে ধরে আসামির সর্বোচ্চ সাজা তিন বছরের কারাদণ্ডের আর্জি জানিয়েছিলেন দুদকের কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ। আর আসামির খালাস চান তার আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এসকে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে তার ও তার উপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদের হিসাব বিবরণীর নোটিস জারি করা হয়।
তিনি গত বছরের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন। কিন্তু আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন।
এরপর গত বছরের ২৫ অগাস্ট তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন। গত ৬ নভেম্বর এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।
মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে। এরপর মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করা হল।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এ ডেপুটি গভর্নরকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
