Published : 24 Jan 2026, 10:04 AM
রাশিয়া ও ইউক্রেইনের আলোচকরা গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শুক্রবার আবু ধাবিতে আলোচনায় বসেছিলেন কিন্তু সমঝোতার কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। এদিকে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেইনকে সবচেয়ে কঠিন বিদ্যুৎ সংকটে ঠেলে দিয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আক্রমণের মধ্য দিয়ে ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। এ লড়াই বন্ধে রাশিয়ার সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইউক্রেইনের ওপর প্রবল চাপ তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মস্কো দাবি করেছে, তারা লড়াই বন্ধ করার আগে কিইভ তাদের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পাঞ্চল দনবাসের পুরোটা রাশিয়াকে ছেড়ে দেউক।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া, ইউক্রেইন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে চলা ত্রিপক্ষীয় এই আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় এখন এই অঞ্চলগত বিরোধ।
শনিবার এই আলোচনা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

টেলিগ্রাম অ্যাপে এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি বলেছেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রাশিয়াকে এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য প্রস্তুত হতে হবে যা তারাই শুরু করেছিল।”
তিনি আরও জানান, ইউক্রেইনের আলোচকদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ আছে, তবে শুক্রবারের আলোচনা নিয়ে কোনো উপসংহারে আসার সময় এখনও হয়নি।
“দেখা যাক আগামীকাল আলোচনা কেমন হয় আর ফলাফল কী দাঁড়ায়,” বলেছেন তিনি।
ইউক্রেইনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব এবং আবু ধাবির আলোচনায় তাদের প্রতিনিধি দলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আলোচনায় কী কী বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে যুদ্ধ শেষ করা উচিত আর ‘আলোচনার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে গভীরত যুক্তিগুলো নিয়ে’ কথা হয়েছে।
জেলেনস্কি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ বৃহস্পতিবার সাক্ষাৎ করেছিলেন, তার পরদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবু ধাবিতে এ আলোচনা শুরু হয়।
শুক্রবার জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, ইউক্রেইনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে একটি চুক্তি প্রস্তুত আছে আর এটি স্বাক্ষর করার জন্য ট্রাম্প একটি স্থান ও তারিখ নির্ধারণ করবেন, শুধু তার অপেক্ষায় আছেন তিনি।
শান্তি চুক্তির পর রাশিয়া যেন আবার আক্রমণ করতে না পারে তার জন্য পশ্চিমা মিত্রদের কাছে শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছে ইউক্রেইন। এই যুদ্ধ শেষ করতে রাশিয়া তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরুর আগেই রাশিয়া ইউক্রেইনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা আরও তীব্র করেছে। এতে ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে আর তাতে শূন্যের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে ঘরবাড়ি ও অফিস গরম রাখার ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে।
ইউক্রেইনের শীর্ষ বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ম্যাক্সিম টিমচেনকো শুক্রবার রয়টার্সকে বলেছেন, পরিস্থিতি ‘মানবিক বিপর্যয়ের’ কাছাকাছি আর ইউক্রেইনের একটি যুদ্ধবিরতি দরকার যেটি জ্বালানি অবকাঠামোতে আক্রমণ বন্ধ করবে।

দেশটির বিদ্যুৎমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বলেছেন, ২০২২ সালের নভেম্বরে রাশিয়া জ্বালানি অবকাঠামোতে আক্রমণ শুরু করার পর যে ব্যাপক বিদ্যুৎবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তারপর থেকে ইউক্রেইনের বিদ্যুৎ গ্রিড সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।
রাশিয়া জানিয়েছে, তারা যুদ্ধের একটি কূটনৈতিক সমাধান চায়, কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান অধরা থেকে যাওয়া পর্যন্ত সামরিকভাবে তারা তাদের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাবে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দাবি, দনবাসের দোনেৎস্ক অঞ্চলের যে ২০ শতাংশ এলাকা এখনও ধরে রেখেছে ইউক্রেইন তা তারা ছেড়ে দেউক। এই প্রায় পাঁচ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকাই একটি যুগান্তকারী চুক্তির পথে বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
কারণ জেলেনস্কি এই ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি নন। তিনি বলছেন, চার বছর ধরে ব্যাপক আক্রমণের পরও রাশিয়া যে অংশ দখল করতে পারেনি তা তারা ছাড়বেন না।