Published : 23 Jan 2026, 08:59 PM
কারাগারে হওয়া প্রেমই এখন পূর্ণতা পেতে চলেছে। বিয়ে করছেন দুইজন সাজাপ্রাপ্ত খুনি। ভারতে রাজস্থান রাজ্যের হাইকোর্ট এই জুটিকে বিয়ের জন্য ১৫ দিনের জরুরি প্যারোল মঞ্জুর করেছে।
শুক্রবারেই রাজস্থানের আলওয়ারের বারোদামেভে এই বিয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। কনের নাম প্রিয়া শেঠ ওরফে নেহা শেঠ এবং বরের নাম হনুমান প্রসাদ।
অনেকটা চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যের মতোই দুই খুনির এই প্রেম এবং বিয়ে নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ছয় মাস আগে জয়পুরের সাঙ্গানের ওপেন জেলে প্রিয়া শেঠ ও হনুমান প্রসাদের পরিচয় হয়েছিল।
একই কারাগারে থাকার সময় তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। এর পরিণতিতেই তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
প্রিয়া যেভাবে খুনে জড়ান
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, প্রিয়া শেঠ পেশায় মডেল ছিলেন। ডেটিং অ্যাপে পরিচয় হওয়া দুশ্যান্ত শর্মা নামের এক তরুণকে খুনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।
সাঙ্গানের ওপেন জেলে রাখা হয় তাকে। এই কারাগারে প্রচলিত কারাগারের তুলনায় সুযোগ-সুবিধা বেশি এবং বন্দিরা তুলনামূলকভাবে বেশি স্বাধীনতা পেয়ে থাকেন।
প্রিয়া শেঠ ২০১৮ সালে হত্যাকাণ্ড ঘটান। ওই বছর ২ মে প্রিয়া শেঠ তার প্রেমিক দীক্ষান্ত কামরা এবং অপর একজনের সঙ্গে মিলে দুশ্যান্তকে হত্যা করেন। প্রিয়ার পরিকল্পনা ছিল, দুশ্যান্তকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা এবং সেই অর্থ দিয়ে তার প্রেমিক দীক্ষান্তের ঋণ পরিশোধ করা।
দুশ্যান্তের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে তাকে বাজাজ নগরের একটি ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়েছিলেন প্রিয়া। পরে দুশ্যান্তের বাবার কাছ থেকে ১০ লাখ রুপি মুক্তিপণ দাবি করেন।
দুশ্যান্তের বাবা তিন লাখ রুপি পাঠিয়েছিলেন। তবে একপর্যায়ে প্রিয়া এবং তার প্রেমিক মনে হয়, তারা দুশ্যান্তকে ছেড়ে দিলে তিনি তাদেরকে পুলিশে ধরিয়ে দিতে পারেন।
তাই গ্রেপ্তার এড়াতে প্রিয়া শেঠ, দীক্ষান্ত ও তার বন্ধু লক্ষ্য ওয়ালিয়া মিলে দুশ্যান্তকে হত্যা করে লাশ একটি স্যুটকেসে ভরে পাহাড়ে ফেলে দিয়েছিলেন।
দুশ্যান্তকে যাতে চেনা না যায় সেটি নিশ্চিত করতে তারা তার মুখ ছুরি দিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছিলেন। প্রমাণ নষ্ট করতে ফ্ল্যাটও পরিষ্কার করেন তারা।
পরদিন ৩ মে-র রাতে পাহাড় থেকে দুশ্যান্তের লাশ উদ্ধার করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত প্রিয়াসহ হত্যায় জড়িত তিনজনই ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার হন।
পাঁচ হত্যাকাণ্ড ঘটান হনুমান প্রসাদ:
হনুমান প্রসাদ তার প্রেমিকার স্বামী ও সন্তানদের হত্যার দায়ে সাজা খাটছেন। আলওয়ারের তায়কোয়ান্ডো খেলোয়াড় সন্তোষ ছিলেন তার প্রেমিকা। ২০১৭ সালের ২ অক্টোবর রাতে সন্তোষ তার স্বামীকে হত্যা করার জন্য প্রসাদকে তার বাড়িতে ডেকেছিলেন।
প্রসাদ তার এক সহযোগীকে নিয়ে সেখানে পৌঁছান। সন্তোষের স্বামী বনওয়ারী লালকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি। সন্তোষের তিন সন্তান ও তাদের সঙ্গে থাকা ভাতিজা জেগে উঠে খুনের ঘটনা দেখে ফেলে।
ধরা পড়ার ভয়ে সন্তোষ তার সন্তান ও ভাতিজাকেও হত্যা করতে বলেন। প্রসাদও সেটিই করেন। সেই রাতে চার শিশু ও এক ব্যক্তিসহ মোট ৫ জন খুন হয়। এটি ছিল আলওয়ারের কুখ্যাত হত্যা মামলাগুলোর অন্যতম।