Published : 02 Feb 2026, 06:59 PM
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সদস্যপদ ছেড়ে যাওয়া সাবেক রাষ্ট্রদূত লর্ড পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর জন্য সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে।
লেবার সরকারে ম্যান্ডেলসনের ভূমিকা নিয়ে পূর্ণ তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বদেনখ মন্ত্রিসভার কার্যালয়ের পূর্ণ তদন্ত আহ্বান করেছেন।
তার দাবি, মন্ত্রী থাকার সময়ে ম্যান্ডেলসন ও তার স্বামী ডা সিলভা এপস্টেইনের কাছ থেকে কোনও অর্থ নিয়েছিলেন কিনা তা তদন্ত করে দেখ হোক। লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের নেতা এড ডেভি বলেছেন, সরকারের উচিত ম্যান্ডেলসনকে উচ্চপদ থেকে সরিয়ে দেওয়া।
স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি)-র ওয়েস্টমিনস্টার নেতা স্টিফেন ফ্লিনও সরকারকে লেবার সরকারে ম্যান্ডেলসনের ভূমিকার পূর্ণ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বছর এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন ম্যান্ডেলসন। ২০০৮ সালে তিনি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসে নিযুক্ত হয়েছিলেন।
একই সময়ে তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের মন্ত্রিসভায় ব্যবসায়িক মন্ত্রী হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।
গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত আরও নতুন নথি প্রকাশ করলে তাতে লর্ড ম্যান্ডেলসনের নাম আসে। এরপরই পার্টির সদস্যপদ ছাড়েন তিনি।
এপস্টেইনের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক নিয়ে যাতে আর কোনও ‘বিব্রতকর পরিস্থিতি’ সৃষ্টি না হয়, সে জন্যই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত বলে জানান ম্যান্ডেলসন।
এপস্টেইনের নথিতে উল্লেখ আছে যে, ২০০৩ ও ২০০৪ সালে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে তিনটি পৃথক লেনদেনে ২৫ হাজার ডলার করে মোট ৭৫ হাজার ডলার দিয়েছিলেন এপস্টেইন।
ম্যান্ডেলসন বলেছেন, এই অর্থ লেনদেনের কোনও রেকর্ড তার কাছে নেই। তিনি এই অভিযোগ মিথ্যা বলেই মনে করেন। তবে বলেন তাকে বিষয়টি যাচাই করে দেখতে হবে।
এই যাচাই প্রক্রিয়া চলার সময় লেবার পার্টিকে আর বিব্রত করতে চান না বলে দলের সদস্যপদ ছাড়ছেন- বলেছেন ম্যান্ডেলসন।
ওদিকে, ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জোরাল হওয়ার মধ্যে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, “তার (ম্যান্ডেলসন) হাউজ অব লর্ডসের সদস্য থাকা উচিত নয়।”
এপস্টেইনের সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের যোগাযোগের সব তথ্য জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা করে দেখতে কেবিনেট সেক্রেটারিকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।