১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘ম্যানার’ শেখানোর নামে ‘র‍্যাগিং’: জাবির ১২ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

বহিষ্কারাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবে না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 05 Jul 2026, 12:44 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:35 PM

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় একই বিভাগের ৫৪ তম ব্যাচের (দ্বিতীয় বর্ষ) ১২ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।

সাময়িক বহিষ্কার শিক্ষার্থীরা হলেন- নাছিম উদ্দিন মজুমদার (শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল), মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত (আল-বেরুনী হল), আব্দুল্লাহ মাহদী (শহীদ রফিক-জব্বার হল), শুভাশীষ রায় প্রান্ত (শহীদ রফিক-জব্বার হল), মো. আবু আবতাহী অনিক (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মো. রায়হান খান (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মো. নাইমুল হাসান (নবাব সলিমুল্লাহ হল), মো. ইসফাক হাদী (এ এফ এম কামালউদ্দিন হল), নাইম আহমেদ সজিব (শহীদ সালাম-বরকত হল), কার্তিক চন্দ্র রায় (শহীদ সালাম-বরকত হল), কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল (মওলানা ভাসানী হল) এবং সাইফুল্লাহ মানসুর আনান (মওলানা ভাসানী হল)।

বহিষ্কারের ওই আদেশে বলা হয়, গত ৩ জুলাই রাত ১১টা থেকে ৪ জুলাই রাত ২টা পর্যন্ত ইতিহাস বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী একই বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ, মানসিক নির্যাতন এবং র‍্যাগিংয়ের মাধ্যমে হয়রানি করেন।

এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ-২০১৮-এর ৪(১)(খ) ধারার পরিপন্থী হওয়ায় ১২ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বহিষ্কারাদেশ কার্যকর থাকা অবস্থায় ওই ১২ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো আবাসিক হলে অবস্থান করতে পারবেন না বলেও আদেশে জানানো হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাত ২টার দিকে ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ শেখানোর কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে র‍্যাগিং করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই প্রক্টরিয়াল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে একই বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করে। এরপর তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে ওই ১২ শিক্ষার্থী ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক জানিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে ওই ১২ শিক্ষার্থী বলেছেন, “আমরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম আবর্তনের ১৩ ছাত্রকে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে র‍্যাগিং দিয়েছি।”

তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও সেন্ট্রাল ফিল্ডে রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি সেমিনার লাইব্রেরি, শ্রেণিকক্ষের করিডোর ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে যেতে বাধা দেওয়া হয়।

আবাসিক হলগুলোতেও একই ধরনের আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং একাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

মূলত ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ এবং আটককৃতদের এই লিখিত স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করেই প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাদের সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

পুরানো খবর:

জাবিতে নবীনদের ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে মধ্যরাতে ডেকে নিয়ে ‘র‍্যাগিং’