Published : 04 Jul 2026, 08:38 PM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীদের ‘ম্যানার’ শেখানোর কথা বলে মধ্যরাতে ডেকে নিয়ে র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় একই বিভাগের ১২ শিক্ষার্থীকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন; যারা নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন।
শুক্রবার রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক।
শনিবার সন্ধ্যায় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “খবর পাওয়ার পরপরই প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। পরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা অফিসে এনে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
“বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডির সভায় উপস্থাপন করা হবে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।”
পরে র্যাগিংয়ের শিকার শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগপত্রে র্যাগিংয়ের শিকার ১৩ শিক্ষার্থী স্বাক্ষর করেছেন।
অভিযোগপত্রে ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে তাদের বিভিন্নভাবে র্যাগিংয়ের শিকার হতে হয়েছে। শুক্রবার রাত ১১টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত তাদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে আটকে রেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, কান ধরে দাঁড় করিয়ে রাখা এবং ‘ফরমাল পরিচয়’ নেওয়ার নামে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। এর আগেও সেন্ট্রাল ফিল্ডে রাত সাড়ে ১০টা থেকে রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত তাদের বসিয়ে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পাশাপাশি সেমিনার লাইব্রেরি, শ্রেণিকক্ষের করিডোর ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে যেতে বাধা দেওয়া হয়।
আবাসিক হলগুলোতেও একই ধরনের আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এসব ঘটনার কারণে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে এবং একাডেমিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগপত্রে ৫৪তম আবর্তনের ১২ শিক্ষার্থীর পরিচয় উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন- সুভাশীষ রায়, নাছিম উদ্দিন মজুমদার, আবু আবতাহী অনিক, নাইমুল হাসান, আব্দুল্লাহ মাহদী, ইসফাক হাদী সিক্ত, মো. রায়হান খান, কাজী শাহ জামসেদ আলম নাবিল, সাইফুল্লাহ মানসুর আনান, মো. মাহফুজুর রহমান অন্ত, শ্রী কার্তিক চন্দ্র রায় এবং নাইম আহমেদ সজিব।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দেওয়া এক লিখিত বক্তব্যে ওই ১২ শিক্ষার্থী ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের ভাষ্য, “আমরা সবাই ইতিহাস বিভাগের ৫৫তম আবর্তনের ১৩ ছাত্রকে ‘ম্যানার’ শেখানোর নামে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে ডেকে নিয়ে র্যাগিং দিয়েছি।”