মনের আনন্দে একসঙ্গে ছবি আঁকল ৪৫০ শিশু
প্রতিযোগিতার প্রতিটি বিভাগে ৩ জনকে ‘গ্র্যান্ড পুরস্কার’ এবং ১০ জনকে ‘বিশেষ পুরস্কার’ দেওয়া হয়।
ক্লিপবোর্ডে আটকান কাগজ, আশেপাশে ছড়ান রঙ পেন্সিল। মাটিতে হাঁটু মুড়ে বসে খুব মনের আনন্দে রঙ করছে শিশুরা। কেউ আঁকছে সূর্য, চাঁদ, কেউ আবার আঁকছে রঙ বেরঙের ফুল।
মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর সিরাজউদ্দৌলা সড়কের একটি কমিউনিটি হলে আয়োজিত ২৭তম রাফি স্মৃতি আর্ট কম্পিটিশনে এভাবেই ছবি আঁকছিল ৪৫০ শিশু।
রোটারি ক্লাব অব ইসলামাবাদ, চট্টগ্রামের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান ওসমান গণি মনসুরের ছেলে প্রয়াত রাফির স্মরণে প্রতিবছর এ আয়োজন করা হয়।
সকালে ওই কমিউনিটি হলে গিয়ে দেখা যায়, মনের আনন্দে ছবি আঁকছে শিশুরা। তাদের একজন সাফোয়্ন বিন সাজিদ আইডিয়াল স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী। কি আঁকছে জানতে চাইলে ছোট্ট সাফোয়ান বলে, “সূর্য, ঘর, একটা আইসক্রিম, একজন মানুষ, চাঁদ, কলা আর বড় একটা ফুল।”
সাজিদের পাশে বসা আফসানা নূর সানায়াও নার্সারি শ্রেণির ছাত্রী। সে নিজে থেকেই বলে, সূর্য, আপেল, সান্তা ক্লজের টুপি, আম আর দুইটা চাঁদ এঁকেছে। দুইটা চাঁদ কেন প্রশ্নে সানায়ার উত্তর, “একটা গোল চাঁদ, আরেকটা বাঁকা চাঁদ।”
তাদের মুখোমুখি বসে ছবি আঁকছিল স্কলাস্টিকাস কনভেন্টের প্লে শ্রেণির ছাত্রী হুরে জান্নাত। তার সামনে রাখা কাগজে কয়েকটি ঢেউ খেলান কাঠামো আর একটা ঘরের অবয়ব ফুটে উঠেছে। কি আঁকছে প্রশ্নে জান্নাতের সোজাসাপ্টা উত্তর, “বলব না।”
গ্রিন পয়েন্ট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আরওয়া রওনক ইসলামের ছবিতে চোখ আটকে যায়। দিগন্তে সূর্য অস্ত যাচ্ছে, নদীতে চলছে পাল তোলা নৌকা। আর সামনের মাঠে কয়েকজন শিশু জড়ো হয়েছে। ছবির ডান পাশে লেখা- ‘শুভ জন্মদিন রাফি, শিশু কিশোরদের আনন্দমেলা’।
ছবির মধ্যে এমন লেখা কেন প্রশ্নে আরওয়া রওনক বলে, “ছবিতে যেমন শিশুরা জড়ো হয়েছে আনন্দ করতে। আজ তেমন অনেক শিশু-কিশোর জড়ো হয়ে এখানে ছবি এঁকে আনন্দ করছে। এই সুযোগ হয়েছে রাফির জন্মদিন উপলক্ষ্যে। তাই ছবিতে সেটা লিখেছি।”
ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, “শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে শিল্পচর্চার বিকল্প নেই। চিত্রাঙ্কনের মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিশুদের মননশীলতা বিকাশের পাশাপাশি তাদের সুন্দর ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
“রাফি স্মৃতি আর্ট কম্পিটিশনের মত আয়োজন শিশুদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।”
আয়োজক সংগঠন রোটারি ক্লাব অব ইসলামাবাদ, চট্টগ্রামের সভাপতি রোটারিয়ান সেলিম রেজা সাগর বলেন, “শিশু-কিশোররা কল্পনাপ্রবণ। তাদের স্বপ্ন এবং ইচ্ছে পবিত্র ও সুন্দর। শিশুরা মনের সব রঙ মিশিয়ে ছবিকে রাঙিয়ে তুলেছে। শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতার বিকাশ এবং শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতেও রাফি স্মৃতি আর্ট কম্পিটিশন আরো বড় পরিসরে আয়োজন করা হবে।”
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম নগরী ও আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণিভিত্তিক ক, খ ও গ তিনটি বিভাগে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিযোগিতায় প্রধান বিচারক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব শিকাগোর ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টসের সহযোগী অধ্যাপক হাইদারি আন্দালুসিয়া।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান ওসমান গণি মনসুর, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি জাহিদুল করিম কচি এবং রোটারি ক্লাব অব ইসলামাবাদ, চট্টগ্রামের সাবেক প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান আজিজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম খান, ইসহাক চৌধুরী ও মাহফুজুর রহমান।
প্রতিযোগিতার প্রতিটি বিভাগে ৩ জনকে ‘গ্র্যান্ড পুরস্কার’ এবং ১০ জনকে ‘বিশেষ পুরস্কার’ দেওয়া হয়। গ্র্যান্ড ও বিশেষ পুরস্কারপ্রাপ্তদের দেওয়া হয় ক্রেস্ট, সনদপত্র ও প্রাইজবন্ড। এ ছাড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থীকে সনদপত্র ও সৌজন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
