১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মিশরের গ্র্যান্ড মিউজিয়াম উদ্বোধন, তুতেনখামেনের সমাধি প্রথম পুরোপুরি প্রদর্শন

বিশ্বের বৃহত্তম প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই মিউজিয়ামে স্থান পেয়েছে প্রায় এক লাখ প্রত্নবস্তু। এর অন্যতম আকর্ষণ তুতেনখামেনের সমাধির প্রথম পূর্ণ প্রদর্শন।

মিশরের গ্র্যান্ড মিউজিয়াম উদ্বোধন, তুতেনখামেনের সমাধি প্রথম পুরোপুরি প্রদর্শন
এই মিউজিয়ামে স্থান পেয়েছে প্রায় এক লাখ প্রত্নবস্তু। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Nov 2025, 08:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:35 PM

প্রাচীন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের একটি, গিজায় খুফুর গ্রেট পিরামিডের পাশে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে মিশরের বিশাল প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর‘গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম’ (জিইএম)।

বিশ্বের বৃহত্তম প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই মিউজিয়ামে স্থান পেয়েছে প্রায় এক লাখ প্রত্নবস্তু। যা মিসরের প্রাক-রাজবংশীয় যুগ থেকে শুরু করে গ্রিক ও রোমান আমল পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার বছরের ইতিহাস তুলে ধরেছে।

জাদুঘরটির উদ্বোধনকে ঘিরে দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ। বিশিষ্ট মিশরবিদরা মনে করছেন, এই জাদুঘর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বিদেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মিশরীয় নিদর্শন ফেরত আনার দাবি আরও জোরদার হবে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের বিখ্যাত ‘রোসেটা স্টোন’।

গ্র্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়াম (জিইএম)-এর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে, বালক রাজা তুতেনখামেনের অক্ষত সমাধি থেকে উদ্ধার করা পুরো সংগ্রহ প্রথমবারের মতো একসঙ্গে প্রদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে তার সোনার মুখোশ, সিংহাসন, রথসহ ৫ হাজার ৫০০টিরও বেশি সামগ্রী।

আন্তর্জাতিক ‘ইজিপ্টোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’- এর সভাপতি ও জিইএম-এর সাবেক প্রধান ড. তারেক তাওফিক বলেন, “তুতেনখামেনকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে চেয়েছি, যাতে কিছুই বাদ না যায়, কিছুই অন্য জাদুঘরে না যায়, যেন দর্শকরা শত বছর আগের হাওয়ার্ড কার্টারের মতো সেই অভিজ্ঞতা পান।”

প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই জাদুঘর বছরে ৮০ লাখ দর্শনার্থী আকর্ষণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা সংকট-পরবর্তী মিশরীয় পর্যটনে বড় ধরনের গতি আনবে।

তুতেনখামেনের প্রদর্শনীর পাশাপাশি এখানে দেখা যাবে ৪ হাজার ৫০০ বছর পুরনো খুফু ফারাওয়ের মৃতদেহবাহী নৌকা, যা প্রাচীন বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো সংরক্ষিত জাহাজগুলোর একটি।

জাদুঘরটি ৫ লাখ বর্গমিটার, যার বাইরের অংশে হায়ারোগ্লিফিক খোদাই ও অ্যালাবাস্টার পাথরের ত্রিভুজাকার নকশা, আর প্রবেশদ্বারটি পিরামিড আকৃতির।

মিশরের সাবেক পর্যটন ও প্রত্নতত্ত্বমন্ত্রী ড. জাহি হাওয়াস,  বলেন, “এটি আমার স্বপ্ন ছিল। এই জাদুঘর মিশরীয়দের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। আমরা এখন আর কেবল খনন বা সংরক্ষণে নয়, নিজের ঐতিহ্যের কিউরেটরও।”

তিনি বলেন, “আমি চাই তিনটি বস্তু ফেরত আসুক, রোসেটা স্টোন, লুভর জোডিয়াক (প্রাচীন মিশরীয় খোদাই করা পাথর), এবং বার্লিনের আবক্ষ মূর্তি নেফারতিতি ভাস্কর্য।”

জাদুঘরটি শুধু দর্শনের স্থান নয়, এটি গবেষণা ও সংরক্ষণের আন্তর্জাতিক কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করবে। এখানে মিশরীয় বিশেষজ্ঞরাই তুতেনখামেনের বর্ম ও অন্যান্য নিদর্শন পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

জিইএম-এর সাবেক প্রধান তাওফিক বলেন, “প্রাচীন মিশরের ইতিহাসের সঙ্গে আমরা আধুনিক মিশরকেও তুলে ধরছি, কারণ এই জাদুঘর গড়েছে মিশর নিজেই।”