Published : 23 Oct 2025, 01:04 PM
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন দুটি মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন সামরিক বাহিনী হামলা চালিয়ে পাঁচজন কথিত মাদকপাচারকারীকে হত্যা করেছে।
বুধবারের এ অভিযানের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মাদকবিরোধী অভিযানে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হল।
রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকালে হেগসেথ জানান, মঙ্গলবার পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি নৌযানে হামলা চালিয়ে দুইজনকে হত্যা করেছে।
প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মাদক কারবারের বিরুদ্ধে নতুন আক্রমণ শুরু করার পর থেকে এই প্রথম প্রশান্ত মহাসাগরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কোনো অভিযানের কথা জানা গেল।
একইদিন কয়েক ঘণ্টা পর হেগসেথ জানান, মার্কিন বাহিনী বুধবার পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আরেকটি নৌযানে আঘাত হেনে তিনজনকে হত্যা করেছে।
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে এসব অভিযানের আগে ক্যারিবীয় সাগরে এ ধরনের অন্তত সাতটি সামরিক অভিযানে ৩২ জনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী। দক্ষিণ ক্যারিবীয় সাগরে মার্কিন বাহিনীর এসব অভিযান নিয়ে ভেনেজুয়েলা ও কলম্বিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
সর্বশেষ হামলার পর হেগসেথ বলেন, “আমাদের গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানা ছিল, নৌযানটি অবৈধ মাদক চোরাচালানে রত ছিল। সেটি মাদক চোরাচালানের একটি পরিচিত রুট ধরে এগিয়ে যাচ্ছিল আর মাদক বহন করছিল।”
তবে নিজের এইসব দাবির বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোনো প্রমাণ হাজির করেননি। তিনি সামাজিক মাধ্যম এক্স এ দুই হামলার প্রায় ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও পোস্ট করেছেন। উভয় ভিডিওতেই একটি নৌযানকে বিস্ফোরিত হওয়ার আগে চলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে।
এর আগে ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানগুলোর ওপর চালানো হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন। যেমন, যে সব নৌযানগুলোতে আঘাত হানা হয়েছে সেগুলোতে কতো পরিমাণ মাদক বহন করা হচ্ছিল বা এমন সুনির্দিষ্ট কী প্রমাণ তাদের কাছে আছে যে তাতে বলা যায় যে সেগুলো মাদকই বহন করছিল।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রো বলেছেন, “প্রশান্ত মহাসাগরে আরেকটি নৌযানে হামলা চালানো হয়েছে, তাতে কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এটি একুইডোরিয়ান না কলম্বিয়ান তা আমরা জানিনা।”
কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়ার উপকূলের অদূরে এসব হামলা ও কলম্বিয়ার ওপর নতুন করে চাপানো মার্কিন শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পর সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ানো পেট্রো বলেছেন, “এটা খুন। সেটা হোক ক্যারিবীয়তে অথবা প্রশান্ত মহাসাগরে। মার্কিন সরকারের কৌশল আন্তর্জাতিক আইনের নিয়ম ভাঙছে।”
কলম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পৃথক এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই এসব হামলা থামানো উচিত।