Published : 11 Feb 2026, 11:20 AM
ভারতের সব সরকারি অনুষ্ঠান ও স্কুলগুলোতে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণ মন’ এর আগে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম্’ বাজাতে হবে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার সকালে জারি করা নতুন নিয়মে মন্ত্রণালয়টি বলেছে, ‘বন্দে মাতরম্’ বাজানোর সময় উপস্থিত সবাইকে দাঁড়াতে হবে।
ভারতের এই জাতীয় স্তোত্র এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে পদ্ম পুরস্কারের মতো বেসামরিক সম্মাননা অনুষ্ঠানগুলোতে এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকেন এমন অনুষ্ঠানগুলোতে বাজাতে হবে। সিনেমা হলের মতো গণপরিসরেও এই স্তোত্র বাজাতে হবে, তবে এক্ষেত্রে দাঁড়ানোর বিষয়টি জাতীয় সঙ্গীতের মতো বাধ্যতামূলক হবে না বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়; খবর ভারতীয় গণমাধ্যমের।
স্তোত্রটি বাজানোর সময় ১৯৩৭ সালে ভারতীয় কংগ্রেস পার্টি যে চারটি স্তবক বাদ দিয়েছিল সেগুলোসহ ‘বন্দে মাতরম্’ গানের ছয় স্তবকের সবগুলোই বাজাতে হবে।
গত মাসে কয়েকটি সূত্র ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে জানিয়েছিল, দেশটির বিজেপি সরকার জাতীয় সঙ্গীতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য রাষ্ট্রীয় নিয়মাবলী ‘বন্দে মাতরম্’ এর ক্ষেত্রেও আরোপ করার পরিকল্পনা করেছে। ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ আইন’ এর অধীনে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন তারা।
আর এই আইনের অধীনে যে কেউ এতে বাধা সৃষ্টি করবে বা অন্যদের শ্রদ্ধা জানাতে বাধা দেবে, তার সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে বিতর্ক
এনডিটিভি লিখেছে, এই নির্দেশনা এবং ওই চারটি স্তবকের অন্তর্ভুক্তি সম্ভবত একটি বিতর্ক সৃষ্টি করবে, বিশেষ করে যখন এই বিষয়টি নিয়ে গত বছর ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধীদল কংগ্রেসের মধ্যে ব্যাপক বাদানুবাদ হয়েছে।
ওই সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিযোগ করে বলেছিলেন, ‘বন্দে মাতরম্’ নিয়ে ‘মুসলমানরা বিরক্ত হতে পারেন’, এমন মন্তব্য করে মুহম্মদ আলি জিন্নাহ এই গানটির বিরোধিতা করেছিলেন আর জওহরলাল নেহেরু তাকে অনুসরণ করেছিলেন।
মোদীর এই অভিযোগের পরপর তার দাবি স্বপক্ষে নেহেরুর চিঠিপত্র শেয়ার করেছিল বিজেপি।
গানটি লেখার ১৫০তম বার্ষিকীতে ভারতের পার্লামেন্টে এই বিষয়টি নিয়ে ‘বিতর্ক’ এক পর্যায়ে পাল্টপাল্টি বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্যে রূপ নেয়।
গানে যে স্তবকগুলো বাদ দেওয়া হয়েছিল সেখানে দুর্গাসহ তিনজন হিন্দু দেবীর উল্লেখ ছিল। মার্চ ও এপ্রিলে হতে যাওয়া পশ্চিম বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এটি এখন ভারতে একটি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
১৯ শতকে ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী চিন্তক, লেখক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৫ সালের ৭ নভেম্বর একটি কবিতা হিসেবে ‘বন্দে মাতরম্’ লিখেছিলেন। পরে ১৮৮২ সালে প্রকাশিত তার ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসে ‘বন্দে মাতরম’ গান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।
পরবর্তী পর্যায়ে এটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে ভারতের স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত বিভিন্ন গুপ্ত সংগঠনের যোদ্ধাদের রণসংগীতে পরিণত হয়।