০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

ট্রাম্পের চোখে ‘যুদ্ধের নায়ক’, তবুও নির্বাচনে পরাজয়ের ‘বলির পাঁঠা’ হেগসেথ?

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের নজিরবিহীন পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে এখন তোলপাড়। নিজে দলের সংসদ সদস্যই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে আনছেন অভিশংসন প্রস্তাব।

ট্রাম্পের চোখে ‘যুদ্ধের নায়ক’, তবুও নির্বাচনে পরাজয়ের ‘বলির পাঁঠা’ হেগসেথ?

হেগসেথ ও ডনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 06 Nov 2026, 01:18 AM

Updated : 06 Nov 2026, 01:18 AM

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং ‘যুদ্ধের নায়ক’ অভিবাদনও শেষ রক্ষা করতে পারছে না মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে।

গত ৩ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির নজিরবিহীন ভরাডুবির পর দলের ভেতরে ও বাইরে সব ক্ষোভের কেন্দ্রে এখন হেগসেথ।

ট্রাম্প পাশে থাকলেও এই রাজনৈতিক বিপর্যয়ের সব দায়ের জন্য ‘বলির পাঁঠা’ হিসেবে শেষ পর্যন্ত হেগসেথকে বিদায় নিতে হতে পারে—এমন আভাসই জোরাল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে।

হেগসেথকে নিশানা করেছেন রিপাবলিকান নেতাদের বড় একটি অংশ। ইতোমধ্যেই তার পদত্যাগের দাবিও উঠেছে দলের ভেতরে। কয়েকটি পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পদত্যাগ না করলে কংগ্রেসে হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনতে পারেন রিপাবলিকান পার্টিরই কয়েক জন সদস্য।

প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান সদস্য টমাস ম্যাসি বৃহস্পতিবার হেগসেথের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, ‘‘তিনি (হেগসেথ) সরে না দাঁড়ালে আমি আগামী সপ্তাহে কংগ্রেসে তার বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব এনে ভোট করাব।”

মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকন দলের পরাজয়ের নেপথ্যে ইরান যুদ্ধের যে ভূমিকা ছিল, তা স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর পেন্টাগনের একজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএন-কে বলেন,

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও তার দপ্তর সামরিক হামলার পথ বেছে নিয়েছে। আর এই ভুল সামরিক কৌশলেরই চরম মূল্য দিতে হয়েছে নির্বাচনে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক রিপাবলিকান কর্মকর্তা মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের তীব্র সমালোচনা করছেন। তার মতে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কতদিন চলবে, এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য কী এবং অর্জন কী হবে তা নিয়ে হেগসেথ শুরু থেকেই ভুল কিংবা অসত্য তথ্য দিয়ে সরকার ও দলকে ভুল পথে পরিচালিত করেছেন।

তাই মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের হারের পর, ট্রাম্প যদি আসলেই কাউকে পরাজয়ের দায় দিতে চান বা শাস্তি দিতে চান, তবে সবার আগে হেগসেথকে পদ থেকে সরানো উচিত।

‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা জানায়, কেন্টাকির রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য থমাস ম্যাসি ইতিমধ্যেই হেগসেথের বিরুদ্ধে আটটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিশংসন প্রস্তাব তৈরি করে রেখেছেন এবং শিগগিরই প্রতিনিধি পরিষদে এই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি করাতে চাইছেন।

ট্রাম্প বারবার হেগসেথের পক্ষ নিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন এবং গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা করছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন: “না, আমি মনে করি তিনি খুব ভালো কাজ করছেন।”

ওদিকে, পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন বুধবার ‘ইউএসএ টুডে’-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দূরদর্শিতার পেছনে পুরোপুরি ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং মার্কিন সেনা ও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিতে কাজ করে যাবে।

হোয়াইট হাউজ এবং কংগ্রেসের কিছু সদস্যের সমালোচনার মুখে পেন্টাগনের এই বিবৃতির মাধ্যমে মূলত বর্তমান নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীন সংহতি ও পূর্ণ সমর্থনের বিষয়টিই স্পষ্ট হয়েছে।

ট্রাম্প হেগসেথকে এই অপ্রিয় ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সমর্থক বা উদ্যোক্তা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। গত ২৩ মার্চ তিনি বলেছিলেন: “পিট, আমি মনে করি আপনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই বিষয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন এবং বলেছিলেন: ‘চলুন এটা করে ফেলি, কারণ আপনি তো আর তাদেরকে (ইরান) পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দিতে পারেন না।”

পিট হেগসেথ কেবল বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটদের চোখেই বিতর্কিত নন, বরং তার সামরিক চিন্তাভাবনা, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর নীতি এবং খামখেয়ালি সিদ্ধান্তের কারণে নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির অনেক প্রবীণ নেতা ও আইনপ্রণেতারাও তার ওপর ক্ষুব্ধ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও কোনও শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেননি। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পর, মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টাদের একাংশ আশা করছেন যে, তিনি শেষপর্যন্ত প্রশাসনের ভেতরে কিছু স্তরে পরিবর্তন নিয়ে আসবেন। আর জল্পনা রয়েছে যে, সেক্ষেত্রে প্রথম ‘কোপ’ হেগসেথের ওপরই পড়বে।