Published : 27 Mar 2026, 11:40 PM
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে এবার টহল দেওয়ার জন্য চালকবিহীন ‘ড্রোন স্পিডবোট’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেণ্টাগন এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথম কোনও সক্রিয় যুদ্ধে এ ধরনের নৌযান ব্যবহারের কথা নিশ্চিত করে জানাল। এর আগে এমন নৌযান মোতায়েনের খবর কোথাও প্রকাশিত হয়নি।
ইউক্রেইন যুদ্ধে বিস্ফোরকবাহী স্পিডবোট দিয়ে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরের নৌবহরের ব্যাপক ক্ষতি সাধনের পর থেকে চালকবিহীন এ নৌযানগুলো আলোচনায় এসেছে।
প্রায় এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরানও অন্তত দুইবার পারস্য উপসাগরে তেলবাহী জাহাজে হামলায় ‘সি ড্রোন’ (সমুদ্র-ড্রোন) ব্যবহার করেছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এখনও এই যুদ্ধে চালকবিহীন নৌযান দিয়ে কোনও আক্রমণাত্মক হামলা চালানোর ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে পেন্টাগনে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, মেরিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক-সি’- এর তৈরি এসব চালকবিহীন নৌযান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র অংশ হিসেবে টহলের কাজে ব্যবহার হচ্ছে।
এই নৌযানগুলো ‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনাইসেন্স ক্রাফট’ বা ‘জিএআরসি’ নামে পরিচিত। এক বিবৃতিতে হকিন্স বলেন, “মার্কিন বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে জিএআরসির মতো ড্রোন নৌযান সহ চালকবিহীন জলযান ব্যবহার করছে।
“এ বিশেষ প্ল্যাটফর্ম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র আওতায় টহল দেওয়ার সময় সফলভাবে ৪৫০ ঘণ্টারও বেশি পানিতে ভেসে থেকে ২,২০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করেছে।”
তবে বর্তমানে মোতায়েন থাকা আরও কোনও চালকবিহীন ব্যবস্থার কথা বলতে রাজি হননি হকিন্স। এ বিষয়ে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ব্ল্যাক-সি’ও কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
রয়টার্স জানায়, দীর্ঘ দিন ধরে পানির ওপরে এবং নিচে চলতে পারা চালকবিহীন জাহাজের বহর গড়ে তোলার চেষ্টা করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
মানুষ চালিত জাহাজ এবং সাবমেরিনের বিকল্প হিসাবে এই সস্তা চালকবিহীন জাহাজ মূলত এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের বাড়তে থাকা নৌশক্তি মোকাবেলায় গড়ার চেষ্টা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু নানা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে এই চেষ্টায় অগ্রগতি হয়নি।
তবে গত বছর রয়টার্স জানায়, প্রায় ৫ মিটার লম্বা জিএআরসি কৌনিক স্পিডবোটগুলো বেশকিছু কাজ করতে সক্ষম। এমনকি দ্রুতগতির অন্য বোট বা নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষের ক্ষেত্রেও এটি ভাল কাজ করে- এমনটিই দেখা গেছে সামরিক পরীক্ষায়।
ফলে অবশেষে এই নৌযানে সাফল্য পেল যুক্তরাষ্ট্র। আঞ্চলিক সমুদ্রপ্রথে নজরদারি এবং সচেতনতা বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের পরিচালিত সারফেস ড্রোনের বহরে রাখা হচ্ছে এই জিএআরসি স্পিডবোট।
পূর্ণ জাহাজের বহর বা রণতরী এবং ডুবোজাহাজের চেয়ে ‘ড্রোন বোট’ পরিচালনা করা সহজ। এতে খরচ তুলনামূলক কম। তাছাড়া, চালক না থাকায় এ ধরনের বোটে সেনাদের প্রাণহানির সম্ভাবনাও কমে।