Published : 14 Jul 2025, 09:52 PM
ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মনোযোগ কাড়ে ১১ বছর আগে। যখন ইতিহাস অনুসন্ধানী ক্যাথরিন করলেস দেখতে পেলেন ‘সেন্ট মেরিস মাদার অ্যান্ড বেবি হোম’- এ ৭৯৬ শিশুর মৃত্যু সনদ আছে। কিন্তু তাদের কোনও কবর নেই। সমাধিফলকও নেই।
তাহলে তাদের কবর কোথায়? এই প্রশ্নই কুরে কুরে খেয়েছিল ক্যাথরিন কর্লেসকে। ২০১৭ সালে তদন্তকারীরা হোম প্রাঙ্গণে খুঁজে পেয়েছিলেন মানব দেহাবশেষ। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এই দেহাবশেষ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তারা।
শিশুদের দেহ চাপা দেওয়া হয়েছিল অব্যবহৃত সেপটিক ট্যাংকে। সেই মৃত শিশুদেরই গণকবর এখন খুঁড়ে তোলা হচ্ছে আয়ারল্যান্ডের তুয়াম শহরে। পুরনো ওই ‘মাদার অ্যান্ড বেবি হোম’-এর জমিতে খননকাজ শুরু করেছে প্রশাসন।
খননকাজে যোগ দিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, কলম্বিয়া, স্পেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞ ও প্রত্নতত্ত্ববিদরা। আর যে সংস্থা খননকাজ পরিচালনা করছে সেটি হল তুয়ামের ‘দ্য অফিস অব দ্য ডাইরেক্টর অব অথোরাইজড ইন্টারভেনশন’। প্রস্ততিমূলক কাজ সম্পন্ন করতে এই সংস্থা চারসপ্তাহ আগেই এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়।
১৯২৫ সাল থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে হোমের শিশুদের মৃত্যু হয়েছিল। সে সময় ‘বন সিকোর্স সিস্টার্স’ নামের একটি ক্যাথলিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত ওই হোমে মূলত অবিবাহিত মা ও তাদের সন্তানদের রাখা হত। তবে পরে কেবল সন্তানদেরই রেখে দেওয়া হত।
যার নেতৃত্বে গণকবরের খননকাজ চলছে, সেই ড্যানিয়েল ম্যাকসুইনি বলেন, “কাজটি খুবই কঠিন। ” বিজ্ঞানীরা বলছেন, শিশুদের হাড় একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে। দেহাবশেষগুলো আবার ঠিকমত জোড়া দেওয়ার জন্য কয়েকটি পদ্ধতি কাজে লাগানো হবে। যেখানে সম্ভব সেগুলোকে চিহ্নিত করা হবে।
খননকাজ ২০২৭ সাল পর্যন্ত চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর পরের কিছু কাজ চলবে আরও তিনবছর পর্যন্ত। বিবিসি জানায়, প্রায় ৮০ জন এরই মধ্যে ডিএনএ নমুনা দিতে এগিয়ে এসেছে তাদের স্বজনদের দেহ উদ্ধারের আশায়।
আনা করিগান নামের এক নারীর দুই ভাইয়ের জন্ম হয়েছিল ওই হোমে। একজনের নাম রেকর্ডে থাকলেও মৃত্যুসনদ নেই। আরেকজনকে নিখোঁজ বলে ২০১৩ সালে পুলিশের খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন আনা। পরের বছর দুই ভাইয়ের কি হয়েছে তা তদন্ত করে দেখারও অনুরোধ জানিয়েছিলেন তিনি।
আনা চান তার ভাইদের খ্রিস্টান রীতি মেনে ঠিকমত কবর হোক। ভাই হোমের নানদের অবহেলা ও অপুষ্টিতে মারা গেছে বলে অভিযোগ আনার। তিনি জানান, তার মা হোম ছেড়ে দেওয়ার পর ভাইয়ের দেখাশোনার জন্য নানদেরকে মাসে ৫ শিলিং করে দিতেন। তাহলে কেন ভাইদের এমন পরিণতি হল? প্রশ্ন আনার।
তার আইনজীবী বলেন, যেসব মৃত্যুর কোনও ব্যাখ্যা নেই তার রহস্য খতিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ওদিকে, ইতিহাস অনুসন্ধানী ক্যাথরিন করলেস বলেন, “আমি যখন বিষয়টি নিয়ে বলা শুরু করেছিলাম তখন তুমুল লড়াই করতে হয়েছে। কেউ কথা শুনতে চয়নি। অবশেষে আমরা ভুলকে শোধরানোর পথে হাঁটছি।”
“আমি মিনতি করছি, এই শিশুগুলোকে সেপটিক ট্যাংক থেকে বের করে আনুন। তাদেরকে খ্রীষ্টিয় রীতিতে মর্যাদার সঙ্গে কবর দিন, যা থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।”