Published : 10 Apr 2026, 01:56 PM
প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতা ছিল না জানিয়ে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বলেছেন, তাদের দুজনকে জড়িয়ে যত ‘মিথ্যা রটনা’ চলছে ‘আজই তার অবসান হওয়া দরকার’।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক ব্রিফিংয়ে তিনি আকস্মিকভাবে এ প্রসঙ্গে কথা বলেন এবং যারা এপস্টেনেইর লালসার শিকার হয়েছে, তাদের জন্য কংগ্রেসে শুনানি ডাকার আহ্বান জানান।
এপস্টেইনই তাকে ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে—অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া এমন গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে মেলানিয়া বলেছেন, “এগুলো আমার চরিত্রহানির হীনম্মন্য চেষ্টা।”
কী কারণে তিনি এই সময়ে এসে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সাংবাদিক ডেকে মুখ খুললেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, বলছে বিবিসি।
মার্কিন এ ফার্স্ট লেডি বৃহস্পতিবার কেবল বিবৃতি পড়ে শুনিয়েছেন, তিনি সাংবাদিকদের কাছ থেকে কোনো প্রশ্নও নেননি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
তিনি যে এপস্টেইন নিয়ে কথা বলবেন সে বিষয়ে আগে থেকে তার কার্যালয় কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। তার প্রতিদিনের সূচিতে যখন এ বিবৃতির প্রসঙ্গ রাখা হয় তখনও এর বিষয় নিয়ে কিছু বলেনি হোয়াইট হাউস।
মার্কিন এ ফার্স্ট লেডি বলেন, তিনি এপস্টেইনের নিপীড়নের শিকার নন। ২০০০ সালে তার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সময়ের পরিচয় ছিল কেবল।
“এপস্টেইনের নিপীড়ন সম্বন্ধে আমি কিছুই জানতাম না। আমি কোনোভাবে জড়িত ছিলাম না, অংশগ্রহণকারীও ছিলাম না,” বলেছেন তিনি।
এপস্টেইনের কারাগারে থাকা সহযোগী গিসলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গেও তেমন যোগাযোগ ছিল না বলে দাবি করেন মেলানিয়া।
মার্কিন সরকারের প্রকাশ করা এপস্টেইন ফাইলসে ম্যাক্সওয়েল ও মেলানিয়ার মধ্যে বিনিময় হওয়া ২০০২ সালের একটি ইমেইল পাওয়া গেছে। সেখানে ‘জি’ নামে একজনকে দেওয়া বার্তায় মেলানিয়া নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনে ‘জে ই’কে নিয়ে লেখা এক নিবন্ধ এবং তাতে ‘জি’-র সঙ্গে ছবির প্রশংসা করেছেন। এখানে ‘জি’ বলতে গিসলেইন ম্যাক্সওয়েল এবং ‘জে ই’ মানে জেফরি এপস্টেইন মনে হচ্ছে।
ইমেইলে মেলানিয়া লেখেন, তিনি পাম বীচে যেতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
“যখন নিউ ইয়র্কে ফিরবে তখন ফোন দিও। ভালো সময় কাটাও। ভালোবাসা, মেলানিয়া,” এমনটাই লিখেছিলেন তিনি।
নিউ ইয়র্ক ম্যাগাজিনের ওই নিবন্ধে এখনকার প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের উদ্ধৃতিও ছাপা হয়েছিল, যেখানি তিনি এপস্টেইনকে ‘চমৎকার লোক’ অ্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, তার সঙ্গে থাকা বেশ মজার।
“এটা বলা যেতে পারে যে তিনি সুন্দরী নারীদের পছন্দ করেন, যেমনটা আমিও করি, এবং ওই নারীদের মধ্যে অনেকেই কম বয়সী। কোনো সন্দেহ নেই জেফরি তার সামাজিক জীবন উপভোগ করে,” ট্রাম্প এমনটাই বলেছিলেন।
বৃহস্পতিবারের ব্রিফিংয়ে মেলানিয়া ২০০২ সালের ওই ইমেইল প্রসঙ্গে বলেন, সেটি ছিল ‘সাধারণ যোগাযোগ’ এবং ‘সৌজন্য রক্ষার জবাব’।
এপস্টেইনের নিপীড়নের শিকার নারীরা যেন কংগ্রেসের শুনানিতে এসে মুখ খুলতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
এসব সাক্ষ্য কংগ্রেসের রেকর্ডে ঢুকবে, যার মাধ্যমে সত্য বেরিয়ে আসবে বলেও মত তার।
এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা বিষয়ে নতুন সব তথ্য বেরিয়ে আসার পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন, যে প্রসঙ্গ উঠে এসেছে মেলানিয়ার বিবৃতিতেও।
“এর মানে এই নয় যে তারা অপরাধী, কিন্তু সত্য উন্মোচনে আমাদের অবশ্যই খোলামেলা ও স্বচ্ছভাবে কাজ করা উচিত,” বলেছেন তিনি।
এপস্টেইন নিয়ে তদন্ত এবং তার সংশ্লিষ্ট সব নথি প্রকাশে মার্কিন আইন মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে যেসব প্রশ্ন উঠেছে, ফার্স্ট লেডির বৃহস্পতিবারের মন্তব্য সেগুলোকে আরও উসকে দেবে বলেই মনে হচ্ছে।
তার স্বামী ডনাল্ড ট্রাম্প আগেই এপস্টেইনের সঙ্গে বহুদিনের জানাশোনা থাকার কথা স্বীকার করে বলেছেন, ওই ‘জঘন্য নীচ’ ব্যক্তিকে পরে তিনি তার পাম বিচের মার-আ-লগো ক্লাব থেকে বের করে দিয়েছিলেন।
৪৭তম এ মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাম বহুবার এপস্টেইন ফাইলসে এসেছে, তবে সেসব নথির কোনোটিতেই তিনি কোনো অন্যায় করেছেন তার ইঙ্গিত বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।