Published : 08 May 2026, 06:47 PM
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ- এর এক গোপন বিশ্লেষণ এবং সাম্প্রতিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের মধ্যেও ইরান অন্তত তিন থেকে চার মাস টিকে থাকতে পারবে, যতক্ষণ না তারা আরও অর্থনৈতিক দুরবস্থার মুখে পড়ছে।
‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকা এ তথ্য জানিয়েছে। বিশ্লেষণের নথি সম্পর্কে অবহিত চারজনের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, এই নথি এ সপ্তাহে হোয়াইট হাউজের নীতি নির্ধারকদের কাছে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কয়েকমাসের সংঘাত এবং নিষেধাজ্ঞার চাপের পরও স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার যথেষ্ট সক্ষমতা তেহরানের আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প যেখানে প্রকাশ্যে ইরানকে অবরোধের চাপে দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়তে থাকা দেশ হিসাবে চিত্রিত করছেন, সেখানে সিআইএ’র এই গোপন মূল্যায়ন একেবারেই ভিন্ন কথা বলছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট আরও জানায়, গোয়েন্দা বিশ্লেষণে এও বলা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের লাগাতার হামলা পরও ইরানের এখনও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিশাল মজুত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে জানান, ইরান সফলভাবে তাদের প্রায় সব ভূগর্ভস্থ মজুত নতুন করে উন্মুক্ত করেছে এবং নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শুরু করেছে। অথচ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে সম্প্রতি এর বিপরীত কথা বলেছিলেন।
গত বুধবারেই ট্রাম্প বলেছিলেন, “ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাপকভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের সম্ভবত ১৮, ১৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আছে। কিন্তু তাদের যে পরিমাণ ছিল, সেই তুলনায় প্রচুর ক্ষেপণাস্ত্র নেই।”
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও গত এপ্রিলের শেষে বলেছিলেন, নিষেধাজ্ঞা এবং অবরোধের চাপে শিগগিরই ইরানের তেল অবকাঠামোর স্থায়ী ক্ষতি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের কথায় সুর মিলিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, অবরোধে ইরানের বাস্তবিকই ক্ষতির ওপর ক্ষতি হচ্ছে এবং ইরানের সামরিক বাহিনী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তেহরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজ চলাচলের ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করে।