Published : 01 Aug 2025, 10:25 AM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন এক নির্বাহী আদেশে প্রতিবেশী দেশ কানাডা থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করেছেন।
বাড়তি এ শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় মধ্যরাত (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকাল ১০টা) থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
একইদিন ট্রাম্প কয়েক ডজন দেশের পণ্যের ওপর নতুন হারে শুল্ক আরোপও করেছেন। বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে দেশভেদে ১০ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত সম্পূরক শুল্ক বসিয়েছেন তিনি।
তবে এসব দেশের ক্ষেত্রে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে ৭ অগাস্ট থেকে।
কিছু দেশ আপাতত তার হাত থেকে ছাড় পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মেক্সিকো; প্রতিবেশী এই দেশটির পণ্যে শুল্ক আরোপ ফের ৯০ দিনের জন্য স্থগিত রেখেছেন রিপাবলিকান এ প্রেসিডেন্ট।
এপ্রিলে ট্রাম্প তার প্রথম শুল্ক পরিকল্পনা ঘোষণা করার পরপরই বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক খাতে তুমুল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি ওই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন কিছুদিনের জন্য স্থগিত করেন, যেন বিভিন্ন দেশ ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে উপনীত হতে পারে।
এই কয়েক মাসের মধ্যে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, ফিলিপিন্স, চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছে। সবাই বেশি মার্কিন পণ্য কেনার আশ্বাসের বিনিময়ে নিজেদের পণ্যে শুল্কের পরিমাণ খানিকটা কমাতে পেরেছে।
কানাডার পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর পেছনে দেশটি থেকে অবৈধভাবে ফেন্টানিলসহ নানান মাদক যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকা এবং এর বিরুদ্ধে অটোয়ার নিস্পৃহতাকে দায়ী করেছে হোয়াইট হাউজ।
যাদের সঙ্গে চুক্তি হয়নি, তার মধ্যে ৭০টির বেশি দেশের জন্য বৃহস্পতিবার নতুন শুল্ক হার ঘোষণা করেন ট্রাম্প।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শুল্ক ধার্য করা হয়েছে সিরিয়ার পণ্যে, ৪১%। যুদ্ধবিধ্স্ত এ দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র এমনিতেই কম পণ্য আমদানি করে।
সিরিয়ার পর সবচেয়ে বেশি শুল্ক গুণতে হবে লাওস ও মিয়ানমারকে, ৪০% করে। সুইজারল্যান্ডকেও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে গুণতে হবে ৩৯ শতাংশ শুল্ক। ইরাক, সার্বিয়ার জন্য ৩৫% আর লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যে ৩০% শুল্ক ধার্য করেছেন ট্রাম্প।
‘ভালো বন্ধু’ ভারতের পণ্যে আরোপ করা হয়েছে ২৫ শতাংশ শুল্ক; দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, শ্রী লঙ্কার জন্য ২০ শতাংশ, পাকিস্তানের জন্য ১৯ শতাংশ, আর আফগানিস্তানের পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
তালিকায় যেসব দেশের নাম নেই তাদের জন্য আগেই ধার্য করা ১০ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে।
শুল্ক এড়াতে রপ্তানিকারকরা তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠালে তাদেরকে গুণতে হবে ৪০ শতাংশ শুল্ক।