Published : 08 Jan 2026, 04:01 PM
কলম্বিয়াকে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার কয়েকদিন পর দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে হোয়াইট হাউজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
বুধবার দুই নেতা এক ফোন কলে কথা বলার পর ট্রাম্প জানান, হোয়াইট হাউজে পেত্রোর সফরের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রোবাবর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে কলম্বিয়াকে কেন্দ্র করা হচ্ছে যা তার ‘ভালো লাগছে’। এর আগের দিন শনিবার ট্রাম্পের নির্দেশে কলম্বিয়ার প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে রাজধানী কারাকাসে তার প্রাসাদ থেকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে তুলে নিয়ে যায় মার্কিন বাহিনী।
ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার তাকে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন পেত্রো বলেন, “আসুন তুলে নিয়ে যান আমাকে। আমি এখানে অপেক্ষা করছি।”
কিন্তু বুধবার ট্রাম্প ও পেত্রো, উভয়েই জানিয়েছেন ওই পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের পর প্রথম ফোন কলে কথা বলেছেন তারা, আলাপে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে কথা হয়েছে।
ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সঙ্গে কথা বলা ছিল বিরাট সম্মানের। তিনি মাদক পরিস্থিতি ও অন্য যে বিষয়গুলোতে আমাদের মধ্যে মতভেদ আছে সেগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য ফোন করেছিলেন। আমি তার ফোন কল ও যেভাবে তিনি কথা বলেছেন তার প্রশংসা করি আর নিকট ভবিষ্যতে তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি।”
ট্রাম্প আরও জানান, ওয়াশিংটনে একটি বৈঠকের বিষয়ে তার ও পেত্রোর মধ্যে ‘সমঝোতা হয়েছে, কিন্তু কবে এ বৈঠক হবে তার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি তিনি। পেত্রো কলম্বিয়ার প্রথম বামপন্থি প্রেসিডেন্ট।
কলম্বিয়ার সার্বভৌমত্ব উদযাপনের জন্য রাজধানী বোগোতায় আয়োজিত এক সমাবেশে পেত্রো সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “তিনি (ট্রাম্প) প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে প্রথমবারের মতো আমরা ফোনে কথা বললাম।”
পেত্রো জানান, ট্রাম্পের সঙ্গে আলাপে তিনি দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ফের শুরু করার অনুরোধে জানিয়েছেন।
পেত্রোর দপ্তরের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ফোন কলটি ‘আন্তরিক’ ও ‘শ্রদ্ধাপূর্ণ’ ছিল।
২০২৫ এর জানুয়ারিতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার পর থেকে তার সঙ্গে পেত্রোর সম্পর্ক হিমশীতল হয়ে ওঠে।
ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই বারবার পেত্রোর প্রশাসনকে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেনের অবিচ্ছিন্ন একটি প্রবাহ সক্ষম করার জন্য দায়ী করে আসতে থাকেন আর অক্টোবরে কলম্বিয়ার নেতার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
রোববার ট্রাম্প পেত্রোকে একজন ‘অসুস্থ মানুষ, যিনি কোকেন তৈরি করতে আর তা যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি করতে পছন্দ করেন’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।
পেত্রো সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে গিয়েছিলেন। অধিবেশনের বৈঠকের পর তিনি নিউ ইয়র্কে ফিলিস্তিনপন্থি এক বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন ও মার্কিন সেনাদের ‘ট্রাম্পের আদেশ না মানার’ আহ্বান জানান। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র পেত্রোর ভিসা বাতিল করে।
পেত্রো গাজায় ইসরায়েলির যুদ্ধেরও তীব্র বিরোধী। ট্রাম্প গাজা ‘গণহত্যায় জড়িত’ বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্য ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ‘ফৌজদারি প্রক্রিয়া’ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
ট্রাম্প প্রশাসন সেপ্টেম্বর থেকে ক্যারিবীয় সাগরে ও প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে মাদক পাচারে নিয়োজিত বলে সন্দেহ করা নৌযানগুলোতে ৩০বারেরও বেশি হামলা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অন্তত ১১০ জন নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন:
'আসুন তুলে নিয়ে যান', মাদুরোর মতোই ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ কলম্বিয়ার