Published : 09 Mar 2026, 02:39 PM
স্কটল্যান্ডের ব্যস্ততম রেলস্টেশনের কাছে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড গ্লাসগোর একটি ঐতিহাসিক ভবনকে গ্রাস করার পর সেটির অংশবিশেষ ধসে পড়েছে।
চার তলা একটি বাণিজ্যিক ভবনের নিচতলায় আগুন লাগার পর রোববার স্থানীয় সময় বিকাল চারটির আগে আগে কয়েক ডজন দমকলকর্মী ইউনিয়ন স্ট্রিটে ছুটে আসেন বলে ক্রু’রা জানান।
রাতের আকাশের নিচে একটি গম্বুজের চারপাশে কমলা রঙের আগুন, তার মধ্যে ক্রেন থেকে ওই আগুন লক্ষ্য করে পানি ছোড়ার কিছু নাটকীয় ছবি এরই মধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে।
আগুন নেভাতে বিশেষায়িত সরঞ্জাম ব্যবহার করা হচ্ছে; হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, জানিয়েছে সিএনএন।
স্থানীয় সময় রাত ২টার দিকে স্কটিশ দমকল ও উদ্ধার বিভাগ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এক পর্যায়ে তারা ১৮টি যন্ত্র ও সরঞ্জাম ব্যবহার করেছেন, তার মধ্যে অনেক উঁচুতে পৌঁছানো যায় এমন তিনটি গাড়িও ছিল।
১০ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পরও আগুন নেভেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক দোকানের দরজার দিক থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। এক ব্যক্তি একটি আগুন নেভানোর এক্সটিঙ্গুইশার থেকে ওই ধোঁয়াতে সামান্য রাসায়নিক ছিটিয়ে দেন, পরে তাকে আশপাশের লোকজন সরিয়ে নেয়।
“ও মাই গড, এটা যেন বিস্ফোরণ,” জরুরি পরিষেবা সংস্থাকে খবর দেওয়ার সময় ভিডিও ক্লিপে একটি কণ্ঠকে এমনই বলতে শোনা যায়।
ঘটনাস্থলে পুলিশের ভ্যান পৌঁছানোর আগে ব্যাকগ্রাউন্ডে একাধিক বিকট শব্দ ও সাইরেনের আওয়াজ পাওয়া যায়।
সিএনএন ওই ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছে।
এ আগুনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি। ত্বরিৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় জরুরি পরিষেবা সংস্থার কর্মীদের ধন্যবাদ দিয়ে এক্সে পোস্টও দিয়েছেন তিনি।
“দয়া করে ভ্রমণ নির্দেশনা অনুসরণ করুন, ওই এলাকাটি এড়িয়ে যান এবং নিরাপদ থাকুন,” বলেছেন সুইনি।
গ্লাসগো সেন্ট্রালের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অংশের নিয়মিত ট্রেন আছে। এই স্টেশন থেকে সরাসরি এডিনবরা ও লন্ডন যাওয়া যায়। স্টেশনটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং এতে ট্রেন চলাচলও ব্যাপক বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে ব্রিটেনের ন্যাশনাল রেল।
১৮৭৩ সালে নির্মিত স্টেশনটিকে ‘চমকপ্রদ, ঐতিহাসিক ভবন’ বলছে নেটওয়ার্ক রেল। তাদের ওয়েবসাইটে গ্লাসগো সেন্ট্রালকে স্কটল্যান্ডের সবচেয়ে ব্যস্ততম স্টেশনও আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
তারা বলছে, গ্লাসগো সেন্ট্রাল শুরুতে আটটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। ক্লাইড নদীতে নৌযান নির্মাণ শিল্পের ব্যাপক সফলতার পাশাপাশি ব্যাপক শিল্পায়নের কারণে গ্লাসগোর দ্রুত বর্ধনশীল জনসংখ্যা মোকাবেলার লক্ষ্যে যে বিস্তৃত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তার অংশ হিসেবেই এই স্টেশনটি খোলা হয়।
অগ্নিকাণ্ডের পরিস্থিতি নিয়ে জানতে সিএনএন স্কটল্যান্ড পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কাছ থেকে সাড়া পায়নি।