Published : 25 Dec 2025, 10:13 AM
কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা সামরিক সংঘর্ষের আবহে সীমান্ত এলাকায় হিন্দু দেবতা বিষ্নুর একটি মূর্তি ভাঙার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত।
বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে ‘অসম্মানজনক কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, “এ ঘটনা বিশ্বজুড়ে বিষ্ণু ভক্তদের অনুভূতিতে আঘাত। এমন ঘটনা ঘটা উচিত নয়।”
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়াকে আলোচনায় বসে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে ভারত। কম্বোডিয়ার অভিযোগ, থাইল্যান্ড মূর্তি ভাঙার এই কাজ করেছে।
ভারতীয় পত্রিকা এনডিটিভি জানায়, কম্বোডিয়ার প্রিয়া বিহার প্রদেশের মুখপাত্র লিম চানপানহা বলেছেন, মূর্তিটি ২০১৪ সালে নির্মিত হয়েছিল। এটি থাইল্যান্ডের সীমান্ত থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরত্বে কম্বোডিয়ার আন সেস এলাকায় অবস্থিত ছিল।
গত সোমবার মূর্তিটি ভেঙে ফেলা হয়। ব্যাকহো লোডার দিয় মূর্তিটি ভাঙার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। লিম চানপানহা বলেন, “বৌদ্ধ ও হিন্দু অনুসারীদের কাছে পূজনীয় প্রাচীন মন্দির ও মূর্তি ধ্বংসের এই ঘটনার নিন্দা জানাই।”
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, “থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত বিরোধপূর্ণ এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে নির্মিত হিন্দু ধর্মীয় দেবতার মূর্তি ভেঙে ফেলার খবর আমরা দেখেছি।
“হিন্দু ও বৌদ্ধদেবতাদের এই অঞ্চলের বহু মানুষ পুজো করেন। এটি একাধিক অঞ্চলের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সভ্যতার ঐতিহ্য। থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে শান্তি ফেরাতে , প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি রোধে কথা বার্তা বলা উচিত, কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা করা উচিত।
“আরও কোনও প্রাণহানি, সম্পত্তি ও ঐতিহ্যের ক্ষতি যাতে না হয় সেজন্য আমরা আবারও উভয় পক্ষকে সংলাপ এবং কূটনীতির উপর ভরসা রাখার অনুরোধ করছি , শান্তি পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানাচ্ছি ।”
থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত মূর্তি ভাঙার বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
গত জুলাই মাসে দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল| পাঁচদিনের সেই সংঘর্ষের পর যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়। সেই যুদ্ধবিরতি করতে মধ্যস্থতা করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
তবে এমাসে দুই দেশের মধ্যে আবার লড়াই শুরু হয়। নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত ৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোয় যুদ্ধবিরতি পুনরায় কার্যকর করার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রথম দফা আলোচনা আগামী সপ্তাহে শুরু হওয়ার কথা। তার মধ্যেই বুধবার দুই দেশের মধ্যে নতুন করে লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে।
সীমান্তবর্তী সিসাকেত ও সুরিন প্রদেশে সংঘর্ষ হয়েছে। থাই গণমাধ্যমে বলা হয়, কাম্বোডিয়ার রকেট হামলার জবাবে থাই বাহিনী ট্যাংকের গোলা ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।