Published : 29 Oct 2025, 12:11 PM
ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকায় ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মেলিসা আঘাত হেনেছে নিউ হোপ শহরের কাছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, ঘণ্টায় ১৮৫ মাইল (২৯৫ কিলোমিটার) বেগে নিউ হোপের কাছে আঘাত হানে ৫ ক্যাটাগরির এই ঘূর্ণিঝড় মেলিসা।
এখন ৪ মাত্রার ঘূর্ণিঝড় হিসেবে মেলিসা পাশের দেশ কিউবার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ওদিকে, মঙ্গলবার মেলিসা জ্যামাইকায় আঘাত হানার আগেই প্রবল বাতাস ও বর্ষণে অন্তত ৩ জনের মৃত্যু হয়।
মেলিসার তাণ্ডবে জ্যামাইকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সেন্ট এলিজাবেথ অঞ্চল সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা। সেখানে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
ঝড়ের দাপটে জ্যামাইকায় উপড়ে গেছ বহু গাছ। বন্ধ বহু রাস্তা। বাসিন্দারা বলছে, এমন ভয়ঙ্কর ঝড়ের দাপট তারা আগে দেখেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার বলছে, মেলিসার বাতাসের গতিবেগ সাফির সিম্পসন স্কেলে সর্বোচ্চ মাত্রার ৫ ক্যাটাগরি ঘূর্ণিঝড়ের ন্যূনতম গতিবেগের (ঘণ্টায় ১৫৭ মাইল বা ২৫২ কিলোমিটার) চেয়ে বেশি (ঘন্টায় ১৮৫ মাইল) ছিল।
ঘূর্ণিঝড়ের পর জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হলনেস সিএনএন-কে বলেন, “এ পর্যন্ত আমরা যে তথ্য পেয়েছি, তাতে হাসপাতালগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আবাসিক ভবন, হাউজিং এবং বাণিজ্যিক ভবনগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমনকি সড়ক অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “এখন পর্যন্ত সরকার কোনও মৃত্যুর নিশ্চিত খবর পায়নি। তবে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের নিরীখে কিছু প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার (এনএইচসি) বলছে, পরের দিকে মেলিসার বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৪৫ মাইলে নেমে এলেও ঝড়টি জ্যামাইকার পাহাড়ি এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে গিয়ে মানুষের জন্য ভূমিধস ও বন্যার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
জ্যামাইকায় ঘূর্ণিঝড় হওয়া নতুন কিছু না হলেও দেশটিতে এর আগে কখনও ৪ বা ৫ ক্যাটাগরির শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় সরাসরি আঘাত হানেনি।
অ্যাকুওয়েদারের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, মেলিসা ক্যারিবীয় অঞ্চলে আঘাত হানা তৃতীয় সর্বোচ্চ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। এর আগে কেবল ২০০৫ সালে উইলমা ও ১৯৮৮ সালে গিলবার্ট নামের শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় জ্যামাইকায় আঘাত হেনেছিল।
জ্যামাইকার দক্ষিণ-পশ্চিমে আঘাত হানে হারিকেন মেলিসা। স্থানীয় সরকারের মন্ত্রী ডেসমন্ড ম্যাককেঞ্জি এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, মেলিসার কারণে সেন্ট এলিজাবেথ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
‘দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য রেডক্রস’ বলেছে, জ্যামাইকার প্রায় ১৫ লাখ মানুষের ওপর এই ঘূর্ণিঝড়ের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
মেলিসা এখন কিউবার দিকে এগুচ্ছে। এই ঘূর্ণিঝড় কিউবার দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল শহর সান্তিয়াগো দে কিউবা শহরে আঘাত হানতে পারে।
কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল রাষ্ট্রীয় গ্রানমা পাত্রিকায় এক বার্তায় বলেছেন, “আমরা আজ বিকালে এবং সন্ধ্যাতেই এই ঝড়ের প্রভাব অনুভব করতে পারব।” তিনি বাসিন্দাদেরকে সরে যাওয়ার নির্দেশ আমলে নিতে বলেন।
“এখনও অনেক কাজ করার আছে। আমরা জানি যে, এই সাইক্লোন গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি ডেকে আনবে”, বলেন মিগুয়েল।