চীনে প্রবল বর্ষায় ভূমিধস, পানিবন্দি জনপদে ছড়িয়ে পড়ছে রোগ
স্থির হয়ে থাকা বন্যার পানির মধ্যে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে। ফলে মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব আরও বাড়তে পারে।
চীনের দক্ষিণাঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে; টানা প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে বহু এলাকা। একইসঙ্গে দেখা দিয়েছে রোগের প্রাদুর্ভাবও।
বুধবার জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলো ত্বরিত পদক্ষেপে ওই অঞ্চলের শহরগুলোতে বৃষ্টির কারণে জমা আবর্জনা ও তলিয়ে যাওয়া রাস্তা পরিষ্কারে কাজ করছিল, তার মধ্যেই আবহাওয়াবিদরা আরও বজ্রবৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশের রাজধানী শহর গুয়াংজুতে গত ২৫ বছরের মধ্যে অগাস্ট মাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়েছে। এতে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বাইয়ুন বিমানবন্দর ৩৬৩টি ফ্লাইট বাতিল করেছে, আরও ৩১১টি ফ্লাইট বিলম্বিত হয়েছে।
এর আগের দিন, হংকং ও চীনের পার্ল নদীর অববাহিকার উচ্চ প্রযুক্তির কেন্দ্র শহরগুলোয় প্রবল বৃষ্টি ঝড়ে। এদিন এশিয়ার আর্থিক কেন্দ্র হংকংয়ে ১৮৮৪ সাল থেকে প্রায় দেড়শ বছরের মধ্যে অগাস্টের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড হয়।
চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম জানিয়েছে, গুয়াংডংয়ে উদ্ধারকর্মীরা শহরাঞ্চলে জমে থাকা পানি সরাতে ড্রেনগুলো পরিষ্কার করতে ছুটাছুটি শুরু করেন এবং কোথাও কোথাও পাম্প দিয়ে পানি অপসারণ করেন।
প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড় থেকে মহাসড়কগুলোতে কাদার ধস নেমে আসে ও গাছপালা উপড়ে পড়ে। রাস্তাগুলো ভেঙে নিচ দিয়ে যাওয়া ক্যাবল ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
সামাজিক মাধ্যমে আসা ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, রাস্তাগুলো বাদামি রঙের পানির নালায় পরিণত হয়েছে। স্থির হয়ে থাকা বন্যার পানির মধ্যে মশার বংশবৃদ্ধি ঘটছে। ফলে ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ঘটা মশাবাহিত রোগ চিকুনগুনিয়ার পরিস্থিতি আরও নাজুক হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এই বৃষ্টিপাতের আগে চিকুনগুনিয়ার প্রভাব কমে আসছিল। ওই সময় গুয়াংডং ৭ হাজারের বেশি চিকুনগুনিয়া রোগী শনাক্তের কথা জানিয়েছিল। ভাইরাসজনিত রোগ চিকুনগুনিয়ার কারণে সাধারণত জ্বর ও গিটে গিটে তীব্র ব্যথা দেখা দেয়।
গুয়াংজুর পাশের শহর ফোশানে সবচেয়ে বেশি চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। অন্তত ১২টি শহরে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাদেশিক কর্মকর্তারা বলছেন, সামনের কয়েক সপ্তাহ রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য কঠিন সময় হবে। টানা বৃষ্টির কারণে মশার বংশবিস্তার বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে চীনজুড়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পূর্ব এশীয় মৌসুমি বায়ু এর উত্তর ও দক্ষিণে অবস্থান করতে থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা আবহাওয়ার এই বদলে যাওয়া ধরনকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত করছেন। আকস্মিক বন্যার কারণে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে আর শত শত কোটি ডলারের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
বুধবার ভোরে গুয়াংজুর উত্তরাঞ্চলীয় এক গ্রামে ভূমিধসে ১৪ জন আটকা পড়েছেন, তাদের মধ্যে সাতজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রবল বর্ষণের মধ্যে ভূমিধস ও বন্যার মতো বিভিন্ন ঘটনায় শনি ও রোববার অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবেলায় গুয়াংডংয়ে নামানো হয়েছে ১৩০০-র বেশি উদ্ধারকর্মী।
গুয়াংডংয়ের অন্তত ১৬টি নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এর মধ্যে দুটি অঞ্চলে পানি ২০১৭ ও ২০১৮ সালের পর সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।
জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, আগস্টেই চীনের দক্ষিণাঞ্চলে আরও দুই থেকে তিনটি টাইফুন আঘাত হানতে পারে।
