Published : 17 Oct 2025, 02:59 AM
তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি) এর সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভের পর ‘চরমপন্থি সংগঠন’ আখ্যা দিয়ে দলটিকে নিষিদ্ধ করতে কেন্দ্র সরকারের কাছে সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব সরকার।
শুক্রবার লাহোরে মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে কোনও দলের নাম উল্লেখ না করে বলা হয়, সহিংসতা উসকে দেওয়া, ঘৃণা ছড়ানো ও আইন ভঙ্গের ঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে “তাৎক্ষণিকভাবে” গ্রেপ্তার করা হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হত্যা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্টের জন্য দায়ী চরমপন্থি দলটির নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে বিচার করা হবে।
দলের নেতাদেরকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের চতুর্থ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যার আওতায় তাদের চলাফেরা ও কার্যক্রমে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ হবে।
পাঞ্জাব সরকার দলটির সব সম্পত্তি ও সম্পদ জব্দ করে ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তরের (আওকাফ বিভাগ) কাছে হস্তান্তর করার পরিকল্পনা করেছে।
একইসঙ্গে দলটির পোস্টার, ব্যানার ও বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাউন্ট বন্ধ এবং ব্যাংক হিসাব স্থগিত করা হবে। লাউডস্পিকার আইনের অপব্যবহার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ারও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।
প্রদেশজুড়ে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিতে চলেছে পাঞ্জাব সরকার।
এর আগে এই সপ্তাহে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মুরিদকেতে টিএলপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের বিক্ষোভ শিবির ভেঙে দেয়। এতে সহিংস সংঘর্ষে এক পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হন এবং ৪৮ জন সদস্য আহত হন, যাদের মধ্যে ১৭ জন গুলিবিদ্ধ।
বিক্ষোভকারীরা ১৪৪ ধারা জারির পরও ইসলামাবাদের দিকে পদযাত্রা শুরু করেছিল, যা কয়েকদিন ধরে প্রদেশজুড়ে অরাজকতা তৈরি করে। সংঘর্ষে অন্তত তিন টিএলপি কর্মী, এক পথচারী নিহত হন এবং প্রায় ৩০ জন সাধারণ মানুষ আহত হন।
বিক্ষোভ চলাকালে সরকারি-বেসরকারি ৪০টিরও বেশি যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই অশান্ত-উত্তেজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পিছনে দায়ী ছিল তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান।
২০১৫ সালে প্রয়াত ধর্মগুরু খাদিম হুসেন রিজভি প্রতিষ্ঠিত ইসলামপন্থি রাজনৈতিক ও জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি) এর নাম প্রথম সংবাদ শিরোনামে আসে ২০১৭ সালে।
সে বার ব্যাপক বিক্ষোভে কয়েক সপ্তাহের জন্য অচল হয়ে গিয়েছিল ইসলামাবাদ। তারপর থেকে, টিএলপি বেশ কয়েকটি সহিংস আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে, যাতে প্রচুর প্রাণহানিও হয়েছে।
২০২১ সালে, তারা মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ) কার্টুনের প্রতিবাদে ফরাসি এবং ডেনিশ দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। এই বিক্ষোভের ব্যাপক সহিংসতা ২০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
এই আন্দোলন এবং চরমপন্থি বক্তব্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে টিএলপিকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন ঘোষণা করে। পরে ২০২১ সালে এটিকে তালিকাভুক্ত করা হয়।
পাকিস্তান সরকারও দুইবার টিএলপি-কে নিষিদ্ধ করেছিল। তবে পরে সেই নির্দেশ তুলে নেওয়া হয়।
সম্প্রতি ইসরায়েল ও হামাসের যুদ্ধ থামাতে এবং গাজা শান্তি চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসলামাবাদ ট্রাম্প সরকারের সেই গাজা পরিকল্পনাকে সমর্থন জানানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করছে টিএলপি।