Published : 04 May 2026, 05:58 PM
ইরান বলেছে, তারা সোমবার হরমুজ প্রণালিতে ঢুকতে চেষ্টা করা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।
যুদ্ধজাহাজটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রও আঘাত হেনেছে বলে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটির একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করলেও মার্কিন এক কর্মকর্তা তা অস্বীকার করেছেন, বলেছেন অ্যাক্সিওসের এক সাংবাদিক।
ইরানের নৌবাহিনী বলেছে, তারা ‘দ্রুত ও কঠোর সতর্কবার্তা’ দিয়ে ‘মার্কিন-জায়নবাদী’ যুদ্ধজাহাজগুলোর হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ ঠেকিয়ে দিয়েছে।
দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স পরে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, হরমুজের দক্ষিণ দিকের প্রবেশপথে জাস্ক বন্দরের কাছে একটি যুদ্ধজাহাজে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। ওই প্রবেশপথেই ইরানের নৌবাহিনীর একটি ঘাঁটি রয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা তৎক্ষণাৎ ফার্সের এ খবর উড়িয়ে দেন বলে জানিয়েছেন অ্যাক্সিওসের সাংবাদিক বারাক রাভিদ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স কোনো খবরেরই সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
পরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডও জানায়, হরমুজে মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজই হামলার সম্মুখীন হয়নি।
পারস্য উপসাগরে আটকা পড়া জাহাজগুলোকে ‘মুক্ত করতে’ যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করবে—প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এমন ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবারই এক পাল্টা হুঁশিয়ারিতে ইরান মার্কিন বাহিনীগুলোকে হরমুজ থেকে দূরে থাকার জন্য সতর্ক করেছিল।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। এর ফলে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে পারস্য উপসাগরে শত শত জাহাজ আটকা পড়ে আছে।
ট্রাম্প বলেছেন, “এসব জাহাজের অনেকগুলোতেই তেমন খাবার নেই আর অধিকাংশ নাবিকদের সুস্থ ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জাহাজে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় অন্য সবকিছুরই ঘাটতি দেখা দিয়েছে।”
রোববার ট্রাম্প জানিয়েছেন, যে দেশগুলোর জাহাজ প্রণালিটিতে আটকা পড়ে আছে তাদের অনুরোধে তিনি ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ নাম দেওয়া এই অভিযান শুরু করতে যাচ্ছেন।
তবে কোন দেশগুলো ওয়াশিংটনের সাহায্য চেয়েছে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি। ট্রাম্প মানবিক সদিচ্ছার ভঙ্গিতে এই অভিযানের পরিকল্পনা তুলে ধরলেও এটি কীভাবে শুরু করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
শুধু বলেছেন, “আমরা এই দেশগুলোকে বলেছি যে আমরা তাদের জাহাজগুলোকে পাহারা দিয়ে ওই বিধিনিষেধ কবলিত জলপথগুলো থেকে নিরাপদে বের করে দেবো, যেন তারা অবাধে ও সক্ষমতার সঙ্গে তাদের ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারে।”
রয়টার্স জানিয়েছে, এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত কমান্ড মার্কিন বাহিনীগুলোকে সতর্ক করে হরমুজ প্রণালি থেকে দূরে থাকতে বলেছে।
তারা বলেছে, যে কোনো হুমকির ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে। বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে ইরানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়হীন যে কোনো ধরনের চলাচল থেকে বিরত থাকতে বলেছে।
এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সম্মিলিত কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আব্দুল্লাহি বলেছেন, “আমরা বারবার বলছি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা আমাদের হাতে আর নিরাপদ পথ পেতে জাহাজগুলোর দরকার সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা।
“আমরা সতর্ক করছি, কোনো বিদেশি সশস্ত্র বাহিনী, বিশেষ করে আগ্রাসী মার্কিন সেনাবাহিনী, যদি হরমুজ প্রণালির দিকে এগনোর ও প্রবেশের সংকল্প করে তাহলে আমরা হামলা চালাবো।”
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ১৫ হাজার সেনা এবং শতাধিক স্থল ও সমুদ্রভিত্তিক আকাশযান নিয়ে এই প্রচেষ্টায় সমর্থন দেবে।
সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেছেন, “নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এই প্রতিরক্ষামূলক মিশনে আমাদের সমর্থন অপরিহার্য।”
এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ট্যাংকারে কয়েকটি অজ্ঞাত প্রজেক্টাইল আঘাত হানে বলে জানায় যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অর্গানাইজেশন এজেন্সি।
ট্যাংকারটিতে ড্রোন হামলা হয়েছে বলে পরে নিশ্চিত করে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ থেকে ৭৮ নটিক্যাল মাইল দূরে ট্যাংকারের হামলার এ ঘটনাটি ঘটে। নৌযানটির সব নাকিক অক্ষত আছেন বলে জানা গেছে।