Published : 05 Oct 2025, 09:46 PM
রাশিয়ার জোর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেইনে অন্তত পাঁচজন নিহত এবং লাখো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে। রোববার রাতভর রাশিয়ার বড় ধরনের এই হামলা চালায় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লিভিভ ছিল রাশিয়ার হামলার মূল লক্ষ্য। সেখানকার লাপাইভকা গ্রামে হামলায় এক পরিবারের চারজন নিহত হয়েছে। আর জাপোরিঝিয়ায় নিহত হয়েছে আরও একজন।
ওদিকে, রাশিয়ার এই হামলার পর নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছে ইউক্রেইনের প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড। পোলিশ সেনাবাহিনী একথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে।
সেইসঙ্গে পশ্চিমা সামরিক জোট নেটোর মিত্ররাও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় বলেছে, তারা সফলভাবে ইউক্রেইনের সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোয় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ৫০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রায় ৫০০টি আক্রমণাত্মক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইউক্রেইনের বিমানবাহিনী সব মিলে সংখ্যাটি ৫৪৯ বলে উল্লেখ করেছে।
লিভিভ কয়েকঘণ্টা ধরে হামলার শিকার হয়েছে। এতে সেখানকার গণপরিবহন সেবা এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
লিভিভ এর আঞ্চলিক প্রধান মাকসিম কোজিৎস্কি বলেছেন, ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেইনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লিভিভে এটিই সবচেয়ে বড় হামলা।
তিনি বলেন, ওই এলাকায় ১৬৩ টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, ইভানো-ফ্রাঙ্কিভস্ক, চেরনিহিভ, সুমি, খারকিভ, খেরসন, ওডেসা এবং কিরোভোহরাদেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী।
তিনি বলেন, আমাদের আরও সুরক্ষা প্রয়োজন এবং প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সুরক্ষা দরকার; যাতে আকাশ সন্ত্রাসকে অকেজো করা যায়।
ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট বলেন, “আকাশপথে একতরফা যুদ্ধবিরতি সম্ভব। এটি প্রকৃত কূটনীতির পথ উন্মুক্ত করতে পারে।”
রাশিয়ার এই হামলার মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বলেছিলেন, রুশ ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর জন্য ইউক্রেইনকে অনুমতি দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পোল্যান্ডের সামরিক কমান্ড বলেছে, “পোলিশ ও মিত্রবাহিনীর বিমান আমাদের আকাশসীমায় টহল দিচ্ছে। একইসঙ্গে স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ও রাডার নজরদারি ব্যবস্থা সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে।”
রোববার ইউক্রেইনের স্থানীয় সময় ভোরে সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের রুশ বিমান হামলা নিয়ে সতর্ক করা হয়। ইউক্রেইনের বিমানবাহিনী রাশিয়ার নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়ার পর সাইরেন বাজানো হয়।
ইউক্রেইনের জ্বালানি মন্ত্রণালয় বলেছে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে রাশিয়া। রাতে রাশিয়ার হামলায় জাপোরিঝিয়া, চেরনিহিভ ও সুমি অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাপোরিঝিয়ার গভর্নর ইভান ফেদোরভ বলেন, “এ অঞ্চলের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পর ৭৩ হাজারেরও বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছে।”
তিনি বলেন, হামলায় এক নারী নিহত ও অন্তত ৯ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১৬ বছরের এক কিশোরীও রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আংশিক ধ্বংস হওয়া একটি বহুতল ভবন ও পুড়ে যাওয়া গাড়ির ছবি প্রকাশ করেছেন ফেদোরভ। চেরনিহিভ ও সুমি অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেইনের জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
লিভিভের মেয়র আন্দ্রি সাদোভি বলেছেন, পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে ৭০ কিলোমিটার দূরের এই শহরের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
শহরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রথমে রাশিয়ার ড্রোন এবং পরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করার জন্য সক্রিয় করা হয়েছে।