Published : 15 Jan 2026, 06:09 PM
উড়িষ্যার মাটির নিচে কি ১০ হাজার বছর পুরনো কোনো সভ্যতার খোঁজ লুকিয়ে আছে? তা বের করতে সামবালপুর জেলার রেদাখোলে ভীমমণ্ডলি পাহাড়ে শুরু হয়েছে খোঁড়াখুড়ি।
গবেষকদের বিশ্বাস, তারা সেখানে পাথর যুগের সভ্যতার নিদর্শন পেয়েছেন।
পাথরে খোদাই করা চিত্র ও প্রাচীন আমলের কিছু সরঞ্জাম মেলার পর ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (এএআই) সেখানে খনন কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
এসব চিত্র ও সরঞ্জাম মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পার সিন্ধু সভ্যতার চেয়েও প্রাচীন হতে পারে বলে ইঙ্গিত অনেক বিশেষজ্ঞের।
যেখানে খনন শুরু হয়েছে, স্থানীয়দের কাহিনীতে সেটির সঙ্গে মহাভারতের যুগের যোগ থাকার কথা বলা হলেও গঙ্গাধর মেহের বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনটাচের গবেষণা দলগুলো এর প্রাগৈতিহাসিক গুরুত্বের ওপরই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
পাথরে খোদাই করা চিত্রে শিল্পীরা যে রঙ ব্যবহার করেছেন তা তৈরি হয়েছে আয়রন অক্সাইডের সঙ্গে গাছের পাতা-বাকল মিশিয়ে
কাজটি ব্যাপক সংবেদনশীল, বলছেন এএসআই সুপারিনটেন্ডেন্ট প্রত্নতত্ত্ববিদ ডিবি গড়নায়ক। নিদর্শনগুলোর যেন কোনো ধরনের ক্ষতি না হয় তা নিশ্চিতে গবেষক দলের সদস্যরা ভারি যন্ত্রপাতির বদলে হাত দিয়ে খুঁড়ছেন। এ কারণে দিনে কখনো কখনো মাত্র এক সেন্টিমিটারের মতো অগ্রগতি হচ্ছে।
প্রাথমিকভাবে যা পাওয়া গেছে তার মধ্যে আছে পাথরের ব্লেড, সূচ ও চামড়ার কাজের সরঞ্জাম।
“এখন পর্যন্ত আমরা পাথরের তীর, ছুরি ও বর্শা। স্পষ্টতই এগুলো আধুনিক হাতিয়ার নয়, এগুলো বেশ প্রাচীন,” বলেছেন এএসআই দলের সদস্য অনিল সোয়াইন।
পাথরে খোদাই করা চিত্রে শিল্পীরা যে রঙ ব্যবহার করেছেন তা তৈরি হয়েছে আয়রন অক্সাইডের সঙ্গে গাছের পাতা-বাকল মিশিয়ে। সেসব চিত্রে বনের পরিবেশ ও তাদের দৈনন্দিন জীবনের কথা উঠে এসেছে।
আবিষ্কৃত চিত্র ও সরঞ্জামগুলো কোন সময়ের তা জানতে কার্বন ডেটিং শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং ভীমমণ্ডল সংঘ স্থানটিকে জাতীয় ঐতিহ্যের স্মারক ঘোষণার দাবি জানিয়েছে।