Published : 11 Mar 2026, 01:45 PM
হরমুজ প্রণালিতে উড়ে আসা অজানা এক বস্তুর আঘাতে একটি মালবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর তাতে আগুন ধরে গেছে।
ক্রুরা জাহাজটি ছেড়ে গেছেন আর সাহায্যের জন্য অনুরোধ করেছেন বলে বুধববার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্সের (ইউকেএমটিও) বরাতে জানিয়েছে রয়টার্স।
ইউকেএমটিওর বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, ০৪:৩৫ জিএমটিতে ওমানের ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে ঘটনাটি ঘটেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। জাহাজগুলোকে সতর্কভাবে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে আরেক প্রতিবেদনে ইউকেএমটিও জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে পৃথক আরেক ঘটনায় একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজে ‘অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু’ আঘাত হেনেছে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটি কূটনৈতিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বা কেউ নিখোঁজও হয়নি।
রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সতর্ক বার্তা তারা দেখেছে আর তাতেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে।
ওই বার্তায় বলা হয়েছে, ড্রোনটি বাগদাদ বিমানবন্দরের পাশ্ববর্তী বাগদাদ ডিপ্লোম্যাটিক সাপোর্ট সেন্ট্রারে আঘাত হেনেছে, এতে একটি গার্ড টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ হামলার বিষয়ে রয়টার্সের জানানো মন্তব্যের অনুরোধে হোয়াইট হাউজ ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, বাগদাদের ওই কম্পাউন্ড লক্ষ্য করে মোট ছয়টি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল, এরমধ্যে পাঁচটি গুলি করে ভূপাতিত করা হয়।
ইরাকের ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী ইসলামিক রেজিট্যান্স হামলাটি চালিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা প্রকাশ করেছে তারা।
ওয়াশিংটন পোস্ট আরও জানায়, ইরাকি ঘাঁটিগুলোর কাছে চালানো এ হামলার নিন্দা করেছে ইরাক কিন্তু মার্কিন স্থাপনাটির কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা উল্লেখ করেনি।
২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে ইরানে ব্যাপক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। তাদের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরানি বাহিনী। ১০ দিন ধরে চলা এ যুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে ১৩০০ জনেরও বেশি বেসামরিক নিহত হয়েছে বলে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন।
এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বলেছে, মার্কিন, ইসরায়েলি হামলা না থামা পর্যন্ত তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেলও’ বাইরে যেতে দেবে না।
আরও পড়ুন:
ইরানি ‘মাইন-পাতা নৌযান ধ্বংস’ করছে যুক্তরাষ্ট্র, হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি